
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আগামী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রস্তাবিত তিন নেতার বিষয়ে একমত নয় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটি। এ অবস্থায় নতুন করে প্রার্থী নির্বাচনের জন্য শূরা সদস্যদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে শূরা সদস্যরা তাদের মতামত জানিয়েছেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দলটির সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেননি।
তবে তিনি বলেছেন, প্রার্থী নির্বাচনে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন করে সদস্যদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।
এর আগে শূরা সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর জন্য সিলেট জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদের নাম কেন্দ্রে পাঠানো পাঠানো হয়েছিল।
মাওলানা হাবিবুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এক লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়েছিলেন। ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মহানগর জামায়াতকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন এবং তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের ছোট ভাই। অন্যদিকে, মাওলানা লোকমান আহমদ সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন পেলেও জোটের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন।
আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চলছে নানামুখী আলোচনা। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় জাতীয় নির্বাচনের মতো এবারও তারা অংশ নিতে পারবে না। ফলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের তৎপরতাই বেশি।
বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনেকটা আগেই শেষ করেছিল। শূরা সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে মেয়র পদের জন্য তিনজনের নাম কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয় দলটির পক্ষ থেকে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত তিনজন প্রার্থীর বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি একমত পোষণ করেনি। তিনজনকেই বাদ দিয়ে নতুন করে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য শূরা সদস্যদের মতামত জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় শূরা সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘এই বিষয়টা এখনো প্রক্রিয়াধীন। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আরো কিছু বর্ধিত পরিসরের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত তিনজন থাকতে পারেন, আবার বিকল্প কিছুও থাকতে পারে।
তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা মোতাবেক আগের পরামর্শ রিভিউ করে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে পরামর্শের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
শেয়ার করুনঃ
নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, জামায়াতে ইসলামী, সিটি করপোরেশন, সিসিক, নির্বাচন


