১০ জুলাই ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / দুর্যোগ

জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি, পানিবন্দী অন্তত ২০ গ্রাম

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৯ জুলাই, ২০২৬ ৮:১৮ অপরাহ্ন


টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারসহ অন্তত ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।  

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, কুশিয়ারা ও নলজুর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগের তৈরি হয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ ছাড়া রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বাগময়না, নোয়াগাঁও, ইসলামপুরসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রাম পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

 

গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এসব এলাকার সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।

 

বন্যার পানির স্রোতে জগন্নাথপুর–রানীগঞ্জ–আউশকান্দি আঞ্চলিক সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ নৌকা ও ভেলাকে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন।

 

এদিকে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও শুকনা খাবারের সংকটও দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানীয় জলের সংকট তীব্র হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি।

 

গোপরাপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমন দাস বলেন, কয়েকদিন বৃষ্টি তাকায় নদীর পানি বেড়ে রাস্তা ঘাট ও বাড়ি ঘরে পানি উঠেছে।

 

পাইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের রমিজ আলী বলেন, যত সময় যাচ্ছে ততই নদীর পানি বাড়ছে, অনেকের বাড়ি করে পানি উঠছে, দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ঘরের ভেতর পানি ঢুকে গেছে। রান্নাবান্না করার কোনো উপায় নেই। ছেলেমেয়েদের নিয়ে চৌকির ওপর বসে রাত পার করছি। চারদিকে শুধু পানি আর পানি, এভাবে চললে না খেয়ে মরতে হবে।

 

চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

 

জগন্নাথপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শেখ ফরিদ বলেন, কুশিয়ারা নদী নলজুর নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আজ ১৭ সেন্টিমিটার পানি রয়েছে।

 

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

জগন্নাথপুর বন্যা, রানীগঞ্জ বাজার, সুনামগঞ্জ বন্যা, কুশিয়ারা নদী, পাহাড়ি ঢল

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ