সিলেটে ১২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড, আরও বর্ষণের আভাস
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৯ জুলাই, ২০২৬ ১:২০ অপরাহ্ন
টানা বৃষ্টি আর ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এখনো অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে তা দ্রুত বাড়ছে। আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। একই সঙ্গে বেড়েছে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকি।
সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ১৬০টি টিলা এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পাউবোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেটের নদ-নদীর পানির উচ্চতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
পাউবো জানিয়েছে, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে এবং তা বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত মেঘনা অববাহিকায় নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম। সংস্থাটি নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুই থেকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, ‘আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।’
অবিরাম বৃষ্টির কারণে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ‘সরকারি হিসাবে জেলায় ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা থাকলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৮৬টি পরিবার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ টিলায় বসবাস করছে।
তিনি বলেন, ‘২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিলেটে টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অব্যাহতভাবে টিলা কাটার কারণে ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।’ এদিকে ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং অবৈধ টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সুযোগ থাকায় পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন। কোথাও পানি জমলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।’
সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, ‘জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে। সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রয়েছে এবং মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’
সিলেট বন্যা, সিলেটে বন্যার শঙ্কা, টিলা ধস, পাহাড় ধস, সিলেট আবহাওয়া, মেঘালয়ের বৃষ্টি, উজানের ঢল, সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী, পানি উন্নয়ন বোর্ড