১৭ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / আন্দোলন-বিক্ষোভ

ইজারা ব্যবস্থা বাতিলসহ ১০ দফা দাবি বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেটের

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশঃ ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৩৫ অপরাহ্ন


‘ইজারা ব্যবস্থা—প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা’ বিষয়ে আলোচনা সভা করেছে বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখা। সভা থেকে বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি খালেদ উদ দীন এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ।


সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মকবুল, বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের প্রবীণ রাজনীতিক সদস্য নুরুল হুদা সালেহ, বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি আকলিছ আহমেদ চৌধুরী, কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও সদস্য জুনেদ আহমেদ।


এ ছাড়া গোয়াইনঘাট উপজেলার দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুহিবুর রহমান এবং অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়া বক্তব্য দেন।


মিনহাজ আহমেদের উপস্থাপিত প্রবন্ধে ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের প্রয়োগের বিষয় তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইজারা ব্যবস্থার নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়।


গোয়াইনঘাটের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী উথাইরা গাঙে পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন।


সংগঠনের অপর সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জনগণের সম্পদ বালু, মাটি, পাথর ও জলাশয়ের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।


নুরুল ইসলাম মকবুল ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামের দিক তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলামের বক্তব্যে নদী-খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় ভূমিদস্যুদের বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন।


সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন।


দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ বাতিল; বালু, মাটি, পাথর ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নীতিমালা প্রণয়ন; প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে ইজারা না দেওয়া; অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা; হাইড্রোগ্রাফিক, বাথিমেট্রিক সার্ভে ও নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ; বালু, মাটি, পাথর ও পানি উত্তোলন ও বিক্রিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ এবং নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা।


আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি আদায়ে সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

ইজারা ব্যবস্থা, বাঙলাদেশ লেখক শিবির, প্রাকৃতিক সম্পদ, বালু, মাটি, পাথর

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ