১৫ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৫১তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২৩ অপরাহ্ন


আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবার হত্যা করা হয়। একই রাতে রাজধানীর আরও দুটি স্থানে হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ওই ঘটনার ৫১ বছর পূর্ণ হলো আজ।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে অভিযান চালিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে। তার সঙ্গে নিহত হন স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং ছোট ভাই শেখ আবু নাসের।


বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাকে রক্ষা করতে ছুটে আসা সেনা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হকও ওই রাতে নিহত হন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং বঙ্গবন্ধুর ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদেরও হত্যা করা হয়। বিদেশে অবস্থান করায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।


বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় এর বিচার কার্যত বন্ধ ছিল। তৎকালীন সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে পরে তা আইনে পরিণত করে। ফলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।


১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। এরপর শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর নিম্ন আদালত ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।


এখন পর্যন্ত ওই মামলায় ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন।


১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে এবং দিনটিতে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করে। পরে ২০০৮ সালে হাইকোর্টের এক রায়ের পর আবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হতে থাকে।


তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০০৮ সালের হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করা হলে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন। এর ফলে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল হয়ে যায়।


এবারও দিনটি আগের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে না।


সরকারের নির্বাহী আদেশে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির আগের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিও নেই।


তবে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্টের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা, বনানী কবরস্থানে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা ও দোয়া এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে।


এছাড়া দেশব্যাপী দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ এবং বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচিও রয়েছে। শনিবার রাত নয়টায় ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়’ শীর্ষক একটি ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা আয়োজনের কথাও দলটির ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে।


১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ এলাকাতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণ দিবস, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জাতীয় শোক দিবস, ১৫ আগস্টের কর্মসূচি, ধানমন্ডি ৩২, টুঙ্গিপাড়া

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ