১৫ আগস্ট ২০২৬

দৈনন্দিন / দুর্ঘটনা

চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৮ জনের

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ৪:৪৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় গ্যাস লিকেজের ঘটনায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারী স্টেশন রোড-সংলগ্ন সাগর উপকূলে মো. লোকমানের মালিকানাধীন ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস বের হয়ে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।


ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, শুক্রবার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সকালের দিকে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাংকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ও বহিরাগত বেশ কয়েকজন বিষয়টি দেখতে সেখানে গেলে তাঁরা গ্যাসে আক্রান্ত হন। ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।


কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানান, প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই ইয়ার্ড থেকে দুই দফায় মোট সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মধ্যে ছয়জনকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল। মৃতদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ঘটনাস্থলে দুজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা আট বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।


নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাঁরা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁরা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।


কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান জানান, জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাস নির্গমনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা যথাযথ ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। কী ধরনের গ্যাস ছিল এবং কীভাবে তা ট্যাংক থেকে বের হলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ট্যাংকে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় গ্যাস পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।


দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইয়ার্ড কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, উত্তেজিত জনতার একাংশ কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ ইয়ার্ডের ভেতর থেকে চিৎকার শুনে লোকজন সেখানে যান এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখতে পান। এরপর জাহাজের ভেতরে মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে।


গ্যাসের তীব্র গন্ধের কারণে সমুদ্রগামী জেলেরাও ভোগান্তিতে পড়েন। স্থানীয় জেলেদের ভাষ্যমতে, কারখানা-সংলগ্ন খালে ঢুকতে না পেরে তাঁদের প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।


সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয় এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান। থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ামাত্র পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

জাহাজভাঙা শিল্প, গ্যাস লিকেজ, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, শ্রমিক মৃত্যু, দুর্ঘটনা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ