
গণমাধ্যমের আসল শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন তা মানুষের পাশে দাঁড়ায়—তাদের সমস্যার কথা বলে, সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরে এবং নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। সেই ভাবনা থেকেই সিলেট ভয়েস আজ থেকে শুরু করছে তার নতুন যাত্রা—একটি হাইপারলোকাল কমিউনিটি নিউজ পোর্টাল হিসেবে।
আমাদের লক্ষ্য পরিষ্কার: জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আলোচনার ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া স্থানীয় মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও স্বপ্নগুলোকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি এলাকার নিজস্ব সংকট, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সম্ভাবনার আলাদা ভাষা থাকে—যা বোঝা ও তুলে ধরা সম্ভব হয় শুধুমাত্র স্থানীয় সাংবাদিকতার মাধ্যমে।
সিলেট শহরের ৪২টি ওয়ার্ড থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত হাওর, পাহাড়, সীমান্তবর্তী অঞ্চল, চা-বাগান, বাজার, হাট-বন্দরের প্রতিটি ধ্বনি ও নি:শ্বাস আমাদের প্রতিবেদনের অংশ হবে। শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনা যেমন আমাদের চর্চার বিষয়, তেমনি এক মৌলভীবাজারের কৃষকের ধানের মাঠেও আমাদের ক্যামেরা থাকবে—যেখানে জলবায়ু, দুর্যোগ বা সরকারি নীতির প্রভাব অনুধাবনযোগ্য হয়।
আমরা শুধু সমস্যা নয়, সমাধানও খুঁজব। দুর্নীতির খবর যেমন সাহসের সঙ্গে প্রকাশ করব, তেমনি নিরবে কাজ করে যাওয়া এক স্কুলশিক্ষকের গল্পও শোনাবো আপনাদের। কারণ আমাদের বিশ্বাস, সাংবাদিকতা কেবল চিৎকার নয়, এটি সংলাপ। এটি অন্ধকারে আলোর খোঁজ।
এই যাত্রা সহজ হবে না। প্রতিকূলতা আসবে, প্রশ্নও উঠবে। কিন্তু সিলেটবাসীর আস্থা ও সহযোগিতা থাকলে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যাব। আমরা চাই, পাঠক, স্থানীয় সংগঠন, নাগরিক সাংবাদিক, শিক্ষার্থী—সবাই এই যাত্রায় আমাদের সঙ্গী হোন। আমাদের নিউজরুম থাকবে উন্মুক্ত, নীতিমালা থাকবে স্বচ্ছ, এবং প্রতিটি শব্দ থাকবে মানুষের পক্ষে।
সিলেট ভয়েস এখন আর কেবল একটি অনলাইন পোর্টাল নয়—এটি একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সিলেট কথা বলবে, প্রতিবাদ করবে, উদযাপন করবে এবং নিজের স্বর তৈরি করবে।
সঙ্গেই থাকুন।
শেয়ার করুনঃ
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, সিলেট ভয়েস, সম্পাদকীয়, হাইপারলোকাল সাংবাদিকতা


