
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৪ দিন বাকি। বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচনকে সামনে রেখে একদিকে যেমন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি সিলেট বিভাগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সীমান্তরক্ষার দায়িত্বশীল বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সম্প্রতি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে ডিটোনেটরসহ ২৪টি জেলিগনাইট ও পাইপগান উদ্ধার করেছে। তার আগে দক্ষিণ সুরমায় পুরাতন টয়লেট থেকে ৬টি, কানাইঘাট উপজেলার পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবন থেকে ২৫টি, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৮টি, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে ১.১২৫ কেজি জেলিগনাইট উদ্ধার হয়েছে।
শুধুমাত্র জেলিগনাইট নয়, নগরীর টিলাগড় এলাকা থেকে ১১টি ককটেল সদৃশ বস্তুসহ বেশ কিছু সন্দেহজনক দ্রব্যও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী এলাকা এবং সিলেট মহানগরী থেকে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, কোনো একটি বা একাধিক পক্ষ সংঘাতমূলক পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রশ্ন হলো—এই বিস্ফোরক কারা মজুত করছে, কী উদ্দেশ্যে, এবং তাদের পেছনে রাজনৈতিক বা অপরাধী কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না—সে বিষয়ে তদন্ত কতটা গভীরে যাচ্ছে? তবে এ প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত বিজিবি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোন বাহিনীর কাছ থেকে যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।
অপরদিকে সিলেটে পরপর দুইজন প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরেকটি বিশেষ অবনতির দিকে দৃষ্টিপাত করছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে বিপুল পরিমাণ প্রবাসীর আগমণের মধ্যে এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়টিকে আরো নিশ্চিত করে।
যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তাই এ ঘটনাগুলো কাকতালীয় নয় বলে মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বরং অতীত অভিজ্ঞতা বলে, নির্বাচনের আগে নাশকতা, সহিংসতা ও ভয়ভীতি তৈরির চেষ্টা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।
এই অবস্থায় কেবল অভিযান ও বিস্ফোরক উদ্ধার, কিংবা হত্যার পর রহস্যের অনুসন্ধান চালানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন আগাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, বিস্ফোরক উদ্ধার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ও দৃশ্যমান অগ্রগতি, এবং সংঘর্ষে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় দ্রুত নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনা।
সিলেট বিভাগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—নির্বাচনকে ঘিরে অস্থিরতা বাস্তব, সম্ভাব্য ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে এখনই কঠোর, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নিতে হবে।
শেয়ার করুনঃ
সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, নির্বাচন, বিস্ফোরক, সম্পাদকীয়,


