১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সম্পাদকীয়

পরীক্ষার চাপে হারানো একটি জীবন: শিক্ষাব্যবস্থা ও দায়বোধের প্রশ্ন

সম্পাদকীয়

প্রকাশঃ ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১:০০ পূর্বাহ্ন


সিলেট নগরীতে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যে কয়েকটি বিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠিত, তার মধ্যে স্কলার্সহোম অন্যতম। একাধিক ক্যাম্পাস, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকমণ্ডলী, বোর্ড পরীক্ষায় ধারাবাহিক ভালো ফলাফল– সব মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের শিক্ষার্থীদের পছন্দের একটি প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আজমান আহমেদ দানিয়ালের মৃত্যু একটি বড় প্রশ্নের সামনে দাড় করিয়ে দিয়েছে সুখ্যাত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে। শুধু এই প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে এ মৃত্যু। একইভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে পরীক্ষা পদ্ধতিকেও। 

গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর বনকলাপাড়া এলাকার বাসা থেকে আজমানের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের সুরতহাল বলছে ‘আত্মহত্যা’। পরিবারের অভিযোগ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ৫ বিষয়ে খারাপ ফল করায় চাপ সহ্য করতে না করতে পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে আজমান। আর এই চাপ প্রয়োগকারীরা হচ্ছেন তার ‘প্রিয়’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোমের শিক্ষকবৃন্দ।

আজমানের মা বলেছেন যে তাঁর সামনে ছেলেকে ‘বেইজ্জত’ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস-প্রিন্সিপাল। একবার তার মা, একবার বাবা, একবার দুজনেই প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বললেও তারা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন, তাদেরকে বাধ্য করেন তাদের সন্তানকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার জন্য।

অপরদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল একটি গণমাধ্যমে বলেছেন যে আজমান ক্লাসে অনিয়মিত ছিল, একাদশের ফাইনালে দুই বিষয়ে ফেল করেছে এবং প্রাক-নির্বাচনীতে ৫ বিষয়ে। এ কারণে তার অভিভাবকদের অনুরোধ করা হয় যাতে তারা শিক্ষার্থীকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। কারো সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়নি।

আজমানের মায়ের অভিযোগ এবং প্রিন্সিপালের বক্তব্যের মধ্যে ভয়াবহ অসঙ্গতি রয়েছে। আর এ অসঙ্গতি জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। আজমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্কলার্সহোমের অলিখিত বেশ কিছু নিয়মকানুন এবং শিক্ষকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

আজমানের মৃত্যুর পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি বিবৃতি দেয় যাতে পুলিশ আজমানের পিতাকে উদ্ধৃতি করে লিখে যে কলেজের প্রিন্সিপাল বা কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই। আর স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে দেয়া পুলিশের এই বিবৃতির একটি অনুলিপি তাদের নোটিশবোর্ডে টাঙ্গিয়ে রেখেছে। 

এখানে প্রশ্ন উঠছে, পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষ না করেই কেনো এই তড়িঘড়ি বিবৃতি? আর কেনোইবা এই বিবৃতিতেই দায়মুক্তি খুঁজতে নোটিশবোর্ডে টাঙ্গিয়ে রেখেছে স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষ?

আজমানের মৃত্যু‌কে সামনে রেখে কীভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির তথা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা? কেনোই বা একজন শিক্ষার্থী মৃত্যুর পথ বেছে নেয়? কতটা মানসিক চাপ পড়ছে আমাদের শিক্ষার্থীদের উপর?

বাংলাদেশে পরীক্ষার চাপ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা করা হয়েছে। আর এসকল গবেষণা যে তথ্য দিচ্ছে তাতে সার্বিক উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই।

বেশিরভাগ গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বলছে যে অন্তত ৫০ থেকে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত স্ট্রেস, এংজাইটি কিংবা ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হচ্ছে। গবেষণা বলছে যেসব শিক্ষার্থী খারাপ ফলাফল করছে, তারা আত্মপরিচয়হীনতার অনুভূতি, ভবিষ্যতের প্রতি অনিশ্চয়তা ও লজ্জায় ভুগছে এবং জীবনের উদ্দেশ্য হারাচ্ছে।

গবেষণা বলছে, শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন আবর্তন — পারিবারিক চাপ, সামাজিক মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস — সব মিলিয়ে একধরনের “অস্তিত্বের সংকট” বা existential crisis তৈরি হয়, যা অনেক সময় হতাশা ও আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিতে পারে। 

আরেকটি গবেষণা কলেজের ধরণ নিয়ে গবেষণা করে বলছে সরকারি কলেজের তুলনায় বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হালকা থেকে তীব্র অ্যাংজাইটি পাওয়া গেছে।

এদিকে গবেষণার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মতামত দেখলেও বিষয়টির গভীরতা বোঝা যায়। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যারা নিয়মিত কাজ করেন, তাদের লেখা বিভিন্ন নিবন্ধে স্পষ্টভাবে তারা বলেছেন যে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও মনোভাব এখনও শিক্ষার্থীদের মানসিক কল্যাণের জন্য প্রস্তুত নয়।

দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করছেন যে খারাপ ফলাফল তাদেরকে গোপনে কিংবা প্রকাশ্যভাবে লজ্জার মধ্যে ফেলে দেয়। এখানে পরিবার এবং শিক্ষকদের প্রত্যাশাকে তারা বোঝা হিসেবে মনে করেন।

আরেকটি প্রতিবেদনে শিক্ষাবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন যে স্কুল বা কলেজগুলো রিপোর্ট কার্ডে গ্রেড দেখে, কিন্তু ছাত্রছাত্রীর মানসিক পরিস্থিতি, চাপ, হতাশা কিংবা উদ্বেগের বিষয়গুলোর দিকে নজর দেয় না।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রমাগত পড়াশোনার চাপ, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, বিশ্রাম ও সামাজিক জীবনের অভাবের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্লান্ত এবং বার্নআউট এর কাছে চলে যাচ্ছে।

কিন্তু এসকলই সমস্যা, এর গভীরতা আরো অনেক ভিতরে। যেমন আজমানের উদাহরণই ধরা যাক। একজন শিক্ষার্থী ঠিক কোন মানসিক পরিস্থিতির কারণে একাদশ শ্রেণীতে ২ বিষয়ে খারাপ করার কয়েকমাস পর প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ভালো ফল না করে ৫ বিষয়ে খারাপ করে– এই প্রশ্নটি কী তার শিক্ষকরা কিংবা পরিবারের সদস্যরা চিন্তা করেছেন?

আজমানের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা অভিযোগ দিচ্ছেন যে সে অনিয়মিত ছিল ক্লাসে। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী কেনো নিয়মিত ক্লাসে আসছে না, দুই বিষয়ে খারাপ করার পরেও কেনো নিজেকে উন্নতি করার চেষ্টা করছে না, তা কী তার শিক্ষকরা তার কাছে জানতে চেয়েছেন? 

আমাদের দেশের বাস্তবতায় আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের বন্ধুসুলভ আচরণ এখনো প্রত্যাশা করিনা, কিন্তু অভিভাবকসুলভ আচরণ কী করেছেন তার শিক্ষকেরা? ডেকে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে কী তার এই অবস্থার কারণ জানতে চেয়েছিলেন?

না, তারা তা করেননি। অন্তত আজমানের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকশত পোস্ট ও কমেন্ট থেকে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে এই অনুভূতিসম্পন্ন অভিভাবকসুলভ আচরণ স্কলার্সহোমের বেশিরভাগ শিক্ষকের কাছ থেকেই কোন শিক্ষার্থীরা পাননি।


স্কলার্সহোমের পাঠানটুলা শাখার সাবেক একজন শিক্ষক ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন যে ২০১৯ সালের একটি ব্যাচের সবাই পাশ করলেও জিপিএ-৫ কম থাকায় প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের অপমানিত করেছিলেন।

আজমানের খারাপ রেজাল্ট, তার মায়ের অভিযোগ, সাবেক শিক্ষকের লেখা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাধিক পোস্ট ও কমেন্ট এবং প্রিন্সিপালের বক্তব্য যদি একটি সুতোতে বাঁধা যায়, তাহলে তার অর্থ দাড়ায় যে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র বোর্ড পরীক্ষাতে ভালো ফলাফলের ব্যাপারেই চিন্তিত। আর যেসকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী তাদেরকে সেই ভালো ফলাফল এনে দিতে পারবে না, তারা এই প্রতিষ্ঠানে থাকার অধিকার হারাবে।


মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম প্রচলিত থাকলেও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীকে বিচার করা, ভৎসনা করা কিংবা ছাড়পত্র দেয়ার কোন সুযোগ নেই। 


অর্থাৎ এই বিষয়টি শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা বা ভালো ফলাফলের ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার কাঠামো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মনোভাবের তীব্র চাপে জর্জরিত ছাত্রছাত্রীদের জীবনের উপাখ্যান যেখানে ব্যর্থতা মানে পরাজিত হওয়া। আর পরাজয়ের গ্লানি কতটা গভীর হতে পারে তা দেখিয়েছে আজমান।

আজমানের মৃত্যু অন্তত একটি সত্যকে প্রকাশ করেছে – কীভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে পারে। আর তা হলো দুর্বল শিক্ষার্থীদের ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নিশ্চিত ভালো রেজাল্ট করবে এমন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া।

এই ঝেড়ে ফেলে দেয়ার ফলে এই শিক্ষার্থী পরবর্তীতে পাশ করলো না ফেল করলো, বেঁচে থাকলো না মারা গেলো, তাতে আর কোন দায় থাকলো না প্রতিষ্ঠানের। বরং ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফলকে উপজীব্য করে প্রতিষ্ঠানটি আরো বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার পথ নিশ্চিত করতে একধাপ এগিয়ে গেলো।

আজমানের মৃত্যুতে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। তড়িঘড়ি করে দেয়া পুলিশী বিবৃতি নয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের দাবি উঠা উচিত। যাতে আজমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করলে সাথে পরিষ্কার উল্লেখ থাকতে হবে পরিস্থিতির কতটা তীব্রতার কারণে এই শিক্ষার্থীকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হয়েছিলো।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০–এর ৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সাহায্য করবে বা প্ররোচনা দান করবে, সে ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত যে কোনও মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়াও তীব্র অপমান, তাচ্ছিল্য বা উপহাস কিংবা উত্তেজিত করার মাধ্যমে কাউকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া দেশের আইন অনুযায়ী অপরাধ। 

একইসাথে, এই মৃত্যুতে সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম কর্তৃপক্ষের উচিত পুলিশের বিবৃতিতে দায়মুক্তি না খুঁজে সমস্যার মূলে গিয়ে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা। এই মৃত্যুতে প্রতিষ্ঠানের দায় পরিষ্কার করা। আর কোনো শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র ভালো রেজাল্ট না করার কারণে ট্রান্সফার নিতে যাতে বাধ্য করা না হয়, তা নিশ্চিত করা। 

একইসাথে শিক্ষকদের আরো সংবেদনশীল করার জন্য উদ্যোগী হতে হবে যাতে তারা শুধু ফলাফলের দিকে নয় বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার দিকেও নজর রাখেন। কোন শিক্ষার্থী অনিয়মিত থাকলে কিংবা খারাপ রেজাল্ট করলে যাতে বাধ্যতামূলকভাবে কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, তা নিশ্চিত করা।

সুপ্রাচীনকাল থেকে সিলেটবাসীর মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এ অঞ্চলে হাজার বছর পূর্বে গড়ে উঠেছিলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃটিশ আমল থেকে শুরু করে হাল সময়েও শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেটের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। 

আর এই ইতিহাসে স্কলার্সহোম গুরুত্বপূর্ণ পালক। এই পালকগুলো বিবর্ণ হোক, জীর্ণ হোক, অসংবেদনশীল হোক– তা কখনোই কাম্য নয়। এই পালকগুলো আরো উজ্জ্বল হোক, বর্ণিল হোক। শুধু ভালো ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, ‘শিক্ষার্থীবান্ধব ও ভালো’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছড়িয়ে যাক সর্বত্র।


শেয়ার করুনঃ

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন

স্কলার্সহোম, আজমান, মৃত্যু, আত্মহত্যা, শিক্ষাব্যবস্থা, দায়বোধ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ