১৬ এপ্রিল ২০২৬

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসক-স্বজন সংঘাত : সংকট গভীরে, সমাধান কোথায়?

সম্পাদকীয়

প্রকাশঃ ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন


সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এখন নিয়মিত সংবাদে পরিণত হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারি রাতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাটি এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সর্বশেষ উদাহরণ। প্রশ্ন উঠেছে, কেন বারবার দেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সেবার পরিবর্তে সংঘাতের রণক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে?


সিলেট ভয়েস প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী, ৯০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অথচ জনবল রয়েছে মাত্র ৫০০ শয্যার বিপরীতে। এই বিশাল ঘাটতিই মূলত অস্থিরতার মূল উৎস। যখন একজন চিকিৎসককে তার সাধ্যের কয়েক গুণ বেশি কাজ করতে হয়, তখন মানসিক চাপের মুখে মেজাজ হারানো অস্বাভাবিক নয়। 


অন্যদিকে, প্রিয়জনের সংকটাপন্ন অবস্থায় যখন স্বজনরা তাৎক্ষণিক মনোযোগ পান না, তখন তাদের উদ্বেগ ক্ষোভে রূপ নেয়। এই দুই চরম অবস্থার সংঘর্ষে বারবারই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাসপাতালের মর্যাদা ও সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তা।


চিকিৎসা কেবল ঔষধ বা সার্জারিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি মানবিক যোগাযোগও বটে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দায়িত্বশীল আচরণ যেমন কাম্য, তেমনি রোগীর স্বজনদেরও ধৈর্যশীল হওয়া প্রয়োজন। অতীতেও এই হাসপাতালে ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে, আবার চিকিৎসকদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একে অপরের প্রতি এই অবিশ্বাসের দেয়াল কেন ভাঙা যাচ্ছে না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রশাসনের জরুরি দায়িত্ব।


হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের ভূমিকা প্রায়শই প্রশ্নবিদ্ধ। রোগীর স্বজনদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এখানে স্পষ্ট। বারবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো সমাধান বা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির না থাকায় সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।


ওসমানী হাসপাতালের এই সংকট কেবল জনবলের নয়, বরং এটি একটি গভীর প্রশাসনিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রতিফলন। শুধু চিকিৎসকদের কর্মবিরতি বা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দিয়ে এই ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। সরকারকে দ্রুত হাসপাতালের জনবল বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কের উন্নয়নে বিশেষ কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। 


মনে রাখতে হবে, হাসপাতালের করিডোরে যখন হাতাহাতি চলে, চিকিৎসকরা যখন কর্মবিরতি পালন করেন, তখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা অন্য সাধারণ রোগীর দীর্ঘশ্বাস আরও দীর্ঘতর হয়।


শেয়ার করুনঃ

সম্পাদকীয় থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, সম্পাদকীয়, ওসমানী মেডিকেল,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ