১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

‘ডিসি নন, তিনি যেন জামায়াত নেতা’

সুনামগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিইসিকে নাছির চৌধুরীর চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশঃ ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৭:৫০ অপরাহ্ন

ছবিঃ ডিসি ইলিয়াস মিয়া। সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে ‘ফ্যাসিবাদ ও বিশেষ মহলের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

 

সোমবার​ (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বরাবর প্রেরিত এক লিখিত অভিযোগে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। অভিযোগের অনুলিপি সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।

 

লিখিত অভিযোগে নাছির উদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জের ডিসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ও সুনামগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন রুমমেট এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এই ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ডিসি সুনামগঞ্জে জামায়াতের ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসনে’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। 

 

এমনকি ইতিপূর্বে দুর্নীতির দায়ে দুবার বদলি হলেও শিশির মনিরের তদবিরে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে ডিসি ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত জেলার ফসল রক্ষা বাঁধে (পিআইসি) রেকর্ড ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, দিরাই-শাল্লা এলাকায় মনিটরিং কমিটি ও পিআইসি কমিটিতে বিএনপি বা অন্য কোনো দলের প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এর পরিবর্তে জামায়াত প্রার্থীর গাইডলাইন অনুযায়ী কেবল তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা এই প্রকল্পের অর্থ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

নাছির চৌধুরী অভিযোগ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে জেলার সবকটি উপজেলায় জামায়াত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হলেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এছাড়া ‘জুলাই বিপ্লবের’ যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়ার নামে সরকারি অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়েছে। এর আগে সুনামগঞ্জের জুলাই যোদ্ধা ও ছাত্র-জনতা উক্ত ডিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করলেও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

 

বর্তমানে চলমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমেও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে নগ্ন হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, দিরাই-শাল্লা উপজেলায় শিশির মনিরের পছন্দের প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন এবং এর বিনিময়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ম্যানেজ করার একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ বা সূক্ষ্ম কারচুপির পরিকল্পনা করেছেন।

 

অভিযোগের শেষে নাছির উদ্দিন চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সুনামগঞ্জের ৫টি নির্বাচনী আসনেই এখন ধানের শীষের জোয়ার বইছে। এই বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে বিএনপির প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ইতিপূর্বে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের উপস্থিতিতেও এই কর্মকর্তার পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। যদি তাকে অবিলম্বে অপসারণ না করা হয়, তবে নির্বাচনের দিন যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার দায়ী থাকবেন।"

 

অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

​উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ এবং পরিবেশ আন্দোলনের কর্মীরাও এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দাখিল করেছিলেন।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

অভিযোগ, ডিসি সুনামগঞ্জ, নাছির চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-২, নির্বাচন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ