
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের নাম নিতে ভুলছেন না প্রার্থীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে বারবার প্রার্থীদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে এ দুই রাজনীতিবিদের নাম।
হাওরের প্রতিকূল স্রোত পেরিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আব্দুস সামাদ আজাদ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জাতীয় নেতা হিসেবে। ভারত উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও কূটনীতিক হিসেবে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পান। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা আজও স্মরণীয়। জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জের মানুষ তাঁকে বারবার বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জ–৩ আসনকে ‘আব্দুস সামাদ আজাদের ঘাঁটি’ হিসেবে দেখা হয়, আর শান্তিগঞ্জকে সাবেক মন্ত্রী এম এ মান্নানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ মাঠে কার্যত অনুপস্থিত। দলীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে সক্রিয় নন। তবে এই শূন্যতার মধ্যেও আব্দুস সামাদ আজাদ ও এম এ মান্নানের রাজনৈতিক প্রভাব শেষ হয়ে যায়নি। বরং ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও তাঁদের অবদান তুলে ধরে ভোটের মাঠে বক্তব্য রাখছেন।
সুনামগঞ্জ–৩ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। আসনটিতে ১৪৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ (ধানের শীষ) নিয়মিত মাঠে রয়েছেন। তাঁর পক্ষে দুই উপজেলার কর্মী–সমর্থকেরা সক্রিয় এবং বড় সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখছেন।
অন্যদিকে তাঁর বিপরীতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা প্রতীক)।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বিএনিপ প্রার্থী কয়ছর ও আনোয়ার হোসেন মধ্যে।
আসনটিতে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী দুজন ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মো. শাহীনুর পাশা (রিকশা), আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ (টেবিল ঘড়ি) ও হোসাইন আহমদ (ফুটবল)। তাদের মধ্যে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে নির্বাচনি সভা–সমাবেশে প্রায় বেশিরভাগ প্রার্থীরা আব্দুস সামাদ আজাদ ও এমএ মান্নানের অবদান তুলে ধরে হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করছেন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের এই কিংবদন্তী রাজনীতিবিদদের প্রশংসা উঠে আসছে।
সম্প্রতি জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টে এক জনসভায় বক্তারা আব্দুস সামাদ আজাদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আব্দুস সামাদ আজাদ ও এম এ মান্নান একজন কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ। বারবার এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি এই এলাকার অহংকারে পরিণত হয়েছেন। গুণী মানুষকে স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব।’
বিএনপি প্রার্থী বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও আব্দুস সামাদ আজাদ ও সাবেক মন্ত্রী আমি মান্নান সুনাম স্থানে অনেক উন্নয়ন করেছেন, তারা সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো ছিল। তিনি আমাদের এলাকাকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত করেছেন। এমন একজন রাজনীতিককে স্মরণ করা আমাদের কর্তব্য।
শেয়ার করুনঃ
নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন
সুনামগঞ্জ-৩ আসন, নির্বাচন, আব্দুস সামাদ আজাদ, এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ


