
বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা নামছে আজ। নিউইয়র্কের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই শেষ হবে এক মাসব্যাপী বিশ্বকাপের জমজমাট আয়োজন।
দুই দলের লড়াইটি কেবল দুটি দেশের নয়, বরং দুই ফুটবল দর্শনেরও। একদিকে টিকিটাকা নির্ভর, সংগঠিত স্পেন; অন্যদিকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা। তাই ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপের সমাপ্তি হবে একটি স্মরণীয় ফাইনালের মধ্য দিয়ে।
ফাইনালকে ঘিরে আরেকটি বড় আকর্ষণ লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। ৩৯ বছর বয়সী মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের অন্যতম বড় ম্যাচ এটি। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইয়ামাল। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই দ্বৈরথও আলোচনার কেন্দ্রে।
আক্রমণে আর্জেন্টিনা, রক্ষণে স্পেন
টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণভাগে সবচেয়ে ধারালো দলগুলোর একটি আর্জেন্টিনা। ফাইনালের আগে দলটির গোলসংখ্যা ১৯। এর মধ্যে একাই ৮ গোল করেছেন লিওনেল মেসি। গোলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অ্যাসিস্ট করে দলকে বারবার উদ্ধার করেছেন তিনি।
অন্যদিকে স্পেনের শক্তি তাদের রক্ষণ। ফাইনালের আগে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। একই সময়ে করেছে ১৩ গোল। গোলরক্ষক উনাই সিমনের নেতৃত্বে স্পেনের রক্ষণভাগ পুরো টুর্নামেন্টেই ছিল দুর্ভেদ্য।
রুদ্ধশ্বাস পথ পেরিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
গ্রুপ পর্বে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে এগোলেও নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল। মিশরের বিপক্ষে ২–০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৩ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে জয় তুলে নেয় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অতিরিক্ত সময়ে গোল করে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
পুরো টুর্নামেন্টেই আর্জেন্টিনার বড় ভরসা ছিলেন মেসি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার গোল, অ্যাসিস্ট ও নেতৃত্বই দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছে।
ধারাবাহিকতায় স্পেন
স্পেনের যাত্রা শুরু হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
সৌদি আরবকে ৪–০, উরুগুয়েকে ১–০ এবং অস্ট্রিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে নকআউটে ওঠে তারা। এরপর পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বিশেষ করে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২–০ গোলের জয় স্পেনের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরো টুর্নামেন্টেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও বল দখলে আধিপত্য দেখিয়েছে দলটি।
মেসির সতর্কবার্তা, রদ্রির প্রত্যয়
ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই কথা বলেছেন লিওনেল মেসি।
তিনি বলেন, স্পেন অসাধারণ একটি দল। তাদের খেলার ধরন আমি খুব ভালো করেই চিনি। বহু বছর এই ধরনের ফুটবল খেলেছি। বিশ্বকাপের ফাইনাল হওয়ায় ম্যাচটি আরও বিশেষ।
অন্যদিকে স্পেন অধিনায়ক রদ্রি বলেছেন, ফাইনালে ওঠাই আমাদের শেষ লক্ষ্য নয়। আমরা ইতিহাস গড়তে চাই। এই প্রজন্মের সামনে বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ এসেছে এবং সেটিই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
ইতিহাসের আরেকটি সন্ধিক্ষণ
মেটলাইফ স্টেডিয়াম মেসির জন্য বিশেষ এক স্মৃতির নাম। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে এই মাঠেই চিলির কাছে হেরে আবেগঘন মুহূর্তে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় এক দশক পর সেই একই মাঠে আবারও বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নামছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এবার কি সেই মাঠেই আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় এবং ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা উপহার দেবেন মেসি? নাকি ইয়ামালের নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে স্পেন?
সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আজ মধ্যরাতের ফাইনালে।
শেয়ার করুনঃ
খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন
বিশ্বকাপ ফাইনাল, আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন, Argentina vs Spain, FIFA World Cup Final , লিওনেল মেসি , লামিনে ইয়ামাল

