সিসিকের নির্মাণাধীন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি পরিদর্শনে প্রশাসক
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৮ অপরাহ্ন
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ উদ্যোগ পৌঁছে গেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। প্রতিদিন ভোরে গ্রামের রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা ও ছড়া পরিষ্কার করে পরিবেশ সংরক্ষণে নীরবে কাজ করে যাওয়া মো. নাসির উদ্দিনের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল।
শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার মোল্লাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে প্রতিনিধিদল নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, তাঁর কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সৌজন্য উপহার তুলে দেয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন তথ্য অধিদপ্তরের প্রেস ক্লিপিংসের মাধ্যমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নজরে আসে। পরে মন্ত্রীর নির্দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদল দেখতে পায়, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই নাসির উদ্দিন গ্রামের রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা ও ছড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়াও তাঁর এই স্বেচ্ছাসেবী কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় গ্রামের পরিচ্ছন্নতা এখন তাঁর দৈনন্দিন দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
প্রতিনিধিদল ঘুরে দেখে, গ্রামের সড়ক ও জনপথে কোথাও আবর্জনা বা গবাদিপশুর মলমূত্র পড়ে নেই। স্থানীয়দের মতে, এটি নাসির উদ্দিনের নিরলস পরিশ্রম ও সচেতনতারই ফল।
এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রতিনিধিদলকে নাসির উদ্দিনের বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই ব্যতিক্রমী কাজ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে তরুণদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও নাসির উদ্দিনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি সমাজের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগই টেকসই পরিবেশ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়বে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবু বকর ছিদ্দিকী, পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ এবং প্রসেস সার্ভার মনিরুজ্জামান। তারা দীর্ঘ সময় নাসির উদ্দিনের সঙ্গে থেকে তাঁর পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ, নাসির উদ্দিন, স্বীকৃতি, পরিবেশ অধিদপ্তর