২০ জুলাই ২০২৬

সংগ্রাম-স্বাধীনতা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান

‘মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখতে চাই’-শহীদ তুরাবের মা, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় স্ত্রী

প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার, সিলেট

প্রকাশঃ ১৯ জুলাই, ২০২৬ ৯:৫২ অপরাহ্ন

ছবিঃ শহীদ সাংবাদিক আবু তাহের মোহাম্মদ তুরাবের মা মমতাজ বেগম। সিলেট ভয়েস

মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান জুলাই আন্দোলনে নিহত সিলেটের শহীদ সাংবাদিক আবু তাহের মোহাম্মদ তুরাবের মা মমতাজ বেগম। ছেলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে বিচার দেখার আকুতি জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অন্যদিকে, মাত্র তিন মাসের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীকে হারানো তুরাবের স্ত্রী তানিয়া ইসলাম এখনও অপেক্ষা করছেন ন্যায়বিচারের।

 

আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন তরুণ সাংবাদিক এটিএম তুরাব। তিনি দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর সিলেট ব্যুরো প্রধান, দৈনিক জালালাবাদ-এর স্টাফ রিপোর্টার, সাপ্তাহিক সপ্তাহ জুড়ে-এর বার্তা সম্পাদক এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন।

 

রোববার (১৯ জুলাই) বাদ যোহর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে তুরাবের কবর জিয়ারত করেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

 

কবর জিয়ারত শেষে শহীদ তুরাবের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুরাবের মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। মৃত্যুর আগে শুধু ছেলের হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।

 

জানা গেছে, শহীদ সাংবাদিক তুরাব হত্যার ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন তার বড় ভাই আবুল আহসান মোহাম্মদ আজরফ জাবুর। মামলাটি প্রথমে সিলেট কোতোয়ালি থানায় দায়ের হলেও পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বর্তমানে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে।

 

এ ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সাদেক কাউসার দস্তগীর ও পুলিশ কনস্টেবল উজ্জ্বল সিংহ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে এজাহারভুক্ত আরও কয়েকজন আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তুরাবের স্বজনরা। তাদের দাবি, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

 

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই সাংবাদিকের পরিবার আজও একটি সুষ্ঠু তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে সহকর্মীদের প্রত্যাশা, দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ঘটনার বিচার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

এদিকে, তুরাবের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানায় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।


শেয়ার করুনঃ

সংগ্রাম-স্বাধীনতা থেকে আরো পড়ুন

এটিএম তুরাব, সাংবাদিক তুরাব, তুরাব হত্যা, বিয়ানীবাজার, ন্যায়বিচার

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ