১৯ জুলাই ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ভয়েস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১:২০ অপরাহ্ন


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু আরেকটি ফাইনালই নিশ্চিত হয়নি, দলটি এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসির ঝুলিতে যোগ হয়েছে একের পর এক নতুন রেকর্ড। পরিসংখ্যান বলছে, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার আধিপত্য কেবল ফলাফলে নয়, খেলাতেও স্পষ্ট।


রোববারের ফাইনালে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বর্তমান ইউরো ও কোপা আমেরিকার শিরোপাধারী দুই দল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে।


সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আর্জেন্টিনা ও স্পেন এখন পর্যন্ত ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দলেরই জয় সমান ৬টি করে, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের ফাইনালটি দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে নতুন এক অধ্যায় যোগ করতে যাচ্ছে।


ফাইনালে জিততে পারলে ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।


এবারের টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে আর্জেন্টিনা ছিল এক নম্বরে, আর স্পেন দুই নম্বরে। ১৯৯২ সালে ফিফা র‍্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে।


এটি আর্জেন্টিনার সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনাল। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম তারা টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার ফাইনাল খেলেছে জার্মানি, আর সাতবার করে ফাইনাল খেলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।


এবারের বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে আর্জেন্টিনা, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এর আগে উরুগুয়ে টানা ১১ ম্যাচে দুই বা তার বেশি গোল করেছিল।


মেসির রেকর্ডের ঝুলি আরও সমৃদ্ধ
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সও ছিল রেকর্ডে ভরা।


তিনি ১২ বার বল দখলের লড়াই জিতেছেন, যা ২০১৪ সালের পর তার কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে সর্বোচ্চ। একই ম্যাচে তিনি ৯টি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন, যা ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যেকোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ।


২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। ১৯৬৬ সালের পর এটি বিশ্বকাপের দীর্ঘতম ধারাবাহিক অবদান।


বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা এখন ১০টি। গত ৬০ বছরে কোনো খেলোয়াড়ই এর ধারেকাছে নেই। চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পেলে ও আঁতোয়ান গ্রিজম্যান।


এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোল ৮টি। কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তিনি যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাশাপাশি চারটি অ্যাসিস্ট নিয়ে অ্যাসিস্টদাতাদের তালিকায়ও যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।


বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। এই ম্যাচগুলোতে তার অবদান ৩৩টি গোলে—২১টি গোল ও ১২টি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অবদান ২৫টি গোল।


১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৯৯টি সুযোগ তৈরির রেকর্ডও এখন মেসির দখলে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডিয়েগো ম্যারাডোনা তৈরি করেছিলেন ৭১টি সুযোগ।


এবারের বিশ্বকাপেই তিনি এখন পর্যন্ত ২৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। আর্জেন্টিনার ইতিহাসে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩০টি সুযোগ তৈরির রেকর্ড রয়েছে ম্যারাডোনার।


আরও যেসব উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা ১৩টি বড় টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা) মধ্যে আটটিতেই দলকে ফাইনালে তুলেছেন। অর্থাৎ, বড় টুর্নামেন্টে তার ফাইনালে ওঠার হার ৬১.৫ শতাংশ।


বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ইতিহাসে (গোলকিপার বাদে) সবচেয়ে বেশি বয়সে মাঠে নামার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। ম্যাচের দিন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর ২১ দিন।


ফাইনালে খেললে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়বেন মেসি।


এনজো ফার্নান্দেজ বিশ্বকাপে প্রথম আর্জেন্টাইন ফুটবলার, যাকে মেসি দুইবার অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে, লাওতারো মার্তিনেজকে বিশ্বকাপে এবারই প্রথম অ্যাসিস্ট দিলেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার উদ্দেশে এটি ছিল মেসির দশম অ্যাসিস্ট, যা অন্য যেকোনো সতীর্থের চেয়ে বেশি।


ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান হয়েছে আর্জেন্টিনার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল তারা। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের পর টাইব্রেকার ছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই আর্জেন্টিনার প্রথম জয়।


সেমিফাইনালের শেষ দিকে বল দখলেও ছিল আর্জেন্টিনার একচ্ছত্র আধিপত্য। ইংল্যান্ড গোল করার পর থেকে লাওতারো মার্তিনেজের শেষ মুহূর্তের গোল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল ৮৮ শতাংশ, যেখানে ইংল্যান্ডের ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।


সব মিলিয়ে, রেকর্ড, পরিসংখ্যান এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সব দিক থেকেই এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা নিজেদের অন্যতম সেরা ছন্দে রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে তারা ইতিহাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারে কি না।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসি, বিশ্বকাপ ২০২৬, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনাল, আর্জেন্টিনার রেকর্ড, মেসির রেকর্ড, আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ