মহাকাব্যিক কামব্যাক, ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৪:০৪ পূর্বাহ্ন
চার ম্যাচ, চারবারই পিছিয়ে পড়া। চারবারই ফিরে আসা। একে আর নিছক কামব্যাক বলা যায় না। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা যেন লিখছে একের পর এক মহাকাব্য। সেই মহাকাব্যের সর্বশেষ অধ্যায়ে শিকার ইংল্যান্ড। শেষ সাত মিনিটের ঝড়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বেশির ভাগ সময়ই এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগে আর্জেন্টিনা আবারও দেখিয়ে দিল, এই দলকে শেষ মুহূর্তের আগে হারিয়ে দেওয়া যায় না।
প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কমতি ছিল না। দুই দলই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া ছিল। আক্রমণের চেয়ে শারীরিক লড়াই, ট্যাকল আর ফাউলের সংখ্যাই ছিল বেশি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় ম্যাচ।
বিরতি থেকে ফিরেই আঘাত হানে ইংল্যান্ড। ৫৫তম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে আসা মর্গান রজার্সের নিখুঁত ক্রসে এক ছোঁয়ায় বল জালে পাঠিয়ে ইংলিশদের এগিয়ে দেন অ্যান্তোনিও গর্ডন। গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় থ্রি লায়ন্সরা।
কিন্তু এই বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়া যেন আর্জেন্টিনার জন্য নতুন কিছু নয়। গোল হজমের পর থেকেই ছন্দ বদলে ফেলে আলবিসেলেস্তেরা। বলের দখল বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে তারা। তবে জর্ডান পিকফোর্ড ও ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ দীর্ঘ সময় ধরে সব চাপ সামাল দেয়।
ম্যাচ যখন ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয়, ঠিক তখনই আসে মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ৮৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে ফাঁকা জায়গা পেয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান এনজো ফার্নান্দেজ। পিকফোর্ডের সর্বোচ্চ চেষ্টাও বল থামাতে পারেনি। পাঁচ মিনিটের কম সময়ে বদলে যায় পুরো ম্যাচের আবহ।
সমতায় ফিরেই ড্রয়ে সন্তুষ্ট থাকেনি আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ের অপেক্ষা না করে জয়ের গোলের খোঁজে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। সেই সাহসেরই পুরস্কার আসে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে।
ডান দিক থেকে লিওনেল মেসির মাপা ক্রস খুঁজে নেয় লাওতারো মার্টিনেজকে। ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের নজর এড়িয়ে ওঠা লাওতারো দুর্দান্ত হেডে বল পাঠিয়ে দেন জালে। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আকাশি-সাদা সমর্থকে ভরা গ্যালারি। আর হতাশায় স্তব্ধ হয়ে যায় ইংল্যান্ড।
এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নকআউট যাত্রাটাই যেন নাটকের চিত্রনাট্য। শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ফিরে জয়, এরপর মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে লিড হারিয়েও শেষ হাসি হেসেছিল স্কালোনির দল। সেমিফাইনালে সেই তালিকায় যোগ হলো ইংল্যান্ড। টানা চার নকআউট ম্যাচে কামব্যাক করে ফাইনালে ওঠার এমন নজির বিশ্বকাপ ইতিহাসেও বিরল।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে আর মাত্র একটি ধাপ। ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্প্যানিয়ার্ডরা।
একদিকে টানা কামব্যাকের বিস্ময়, অন্যদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফাইনালে ওঠা স্পেন। সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায় হতে যাচ্ছে দুই ইউরোপ-লাতিন ফুটবল দর্শনের এক রোমাঞ্চকর মহারণ।
আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড, Argentina vs England, আর্জেন্টিনা ফাইনাল, বিশ্বকাপ ২০২৬, Argentina World Cup 2026, Lionel Messi, লিওনেল মেসি, লাওতারো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, England vs Argentina semifinal