২২ এপ্রিল ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

হাওরে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়েই চলছে, অচল সুরক্ষা ব্যবস্থায় বাড়ছে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন


সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি প্রতি বছরই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষার আগমুহূর্তে মার্চ থেকে জুন এই সময়টায় কৃষক, জেলে ও দিনমজুরেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। কিন্তু তাদের সুরক্ষায় স্থাপিত বজ্রনিরোধক দণ্ডগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৮ জন। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয় প্রতিটি মৃত্যু হাওরবাসীর জীবনে একেকটি গভীর শোকের চিহ্ন হয়ে আছে।

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ২০২১-২২ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮টি লাইটনিং এরেস্টার বসানো হয়। তবে বাস্তবতা হলো, এসব দণ্ডের বেশিরভাগই বসানো হয়েছে সরকারি ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস কিংবা মুজিব পল্লীর মতো স্থানে। অথচ যেসব উন্মুক্ত মাঠে দিনভর কাজ করেন কৃষক ও জেলেরা, সেখানে এ ধরনের কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

দেখা গেছে, অনেক দণ্ডই এখন অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও মিটার কাজ করছে না, কোথাও আবার রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো ব্যবস্থাই নিষ্ক্রিয়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে স্থাপিত দণ্ডগুলোর অবস্থাও একই রকম অব্যবহৃত ও উপেক্ষিত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনার ঘাটতি ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে এসব দণ্ড বসানো হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুল করিম বলেন, আমরা হাওরে কাজ করতে যাই বাধ্য হয়ে। আকাশ মেঘলা হলেই ভয় লাগে। আশপাশে কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। বজ্রনিরোধক দণ্ডের কথা শুনেছি, কিন্তু সেগুলো তো আমাদের কাজের জায়গায় নেই।

হাউস এর নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ  বলেন, হাওরাঞ্চলে বজ্রপাত নতুন কিছু নয়, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর তীব্রতা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। পরিকল্পনার অভাব এবং ভুল স্থাপনার কারণে বজ্রনিরোধক দণ্ডগুলো প্রত্যাশিত সুরক্ষা দিতে পারছে না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, সীমিত বাজেট ও পরিকল্পনার কারণে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জনসমাগম বেশি এমন স্থানে দণ্ড বসানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, হাওরাঞ্চল, বজ্রপাত,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ