সিসিকের ১১ ভুয়া জন্মসনদ বাতিল হলেও এখনও অধরা জালিয়াত চক্র
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সিলেটের বিয়ানীবাজারে আলোচিত শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের শত শত গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত এমডি আব্দুল মান্নান মিন্টু উধাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক গ্রাহকের দায়ের করা মামলায় সমিতির দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে তাদেরকে আটক করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের মাথিউরা দুধবকশী গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের মেয়ে খালেদা বেগম এবং বিয়ানীবাজার পৌরসভার নয়াগ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে খয়রুল ইসলাম। গ্রেপ্তার খালেদা বেগম সমিতির ক্যাশিয়ার ও খয়রুল ইসলাম রিসিপশনিস্ট হিসাবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে তাহেরা পারভীন শেফা নামে এক ভুক্তভোগীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির এমডি আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মিন্টুকে প্রধান আসামী করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত খালেদা ও খয়রুল মামলার এজহারভুক্ত আসামী।
জানা যায়, পৌরশহরের কলেজ রোডে প্রতিষ্ঠিত এ সমিতি কয়েক বছরের মধ্যে বিয়ানীবাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার গ্রাহক সংগ্রহ করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অধিক মুনাফা ও আকর্ষণীয় লাভাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা হয়। শুরুতে নিয়মিত লভ্যাংশ পরিশোধ করলেও পরবর্তীতে নানা অজুহাতে অর্থ ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সমিতির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর থেকে আমানতকারীরা বারবার অফিসে গেলেও তাদের জমাকৃত অর্থ কিংবা প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ ফেরত পাননি। অনেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা চাইতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, এমনকি কয়েকজনকে মারধরেরও শিকার হতে হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জীবনভর সঞ্চিত অর্থ, আবার কেউ জমি বিক্রির টাকা কিংবা প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থ এই সমিতিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। ফলে টাকা ফেরত না পেয়ে অনেক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।
মামলার বাদি তাহেরা পারভীন শেফা জানান, ‘কষ্টার্জিত সকল অর্থ শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতিতে রেখে ডিপোজিট করেছিলাম। বিগত দুই বছর থেকে সেই টাকা পাওয়ার আশায় বারবার অফিসে ধর্না দিয়েও মিলেনি। পরে বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেছি।’
তিলপাড়া ইউনিয়নের দাসউরা গ্রামের ভুক্তভোগী সিদ্দিক আহমদ বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে ছিলাম। সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে শাহজালাল সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডে ৭-৮ লাখ টাকা সঞ্চয় করি। দেশে ফিরে তাদের অফিসে বারবার যোগাযোগ করলেও টাকা পাইনি। বরং তারা আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেছে।’
একই ইউনিয়নের আরও দুই ভুক্তভোগী হচ্ছেন জসিম উদ্দিন ও জয়নুল ইসলাম। তারা বলেন, ‘বিগত প্রায় দেড় বছর ধরে আব্দুল মান্নান মিন্টু ও তার অফিসের কর্মকর্তাদের পেছনে ঘুরে ২/৩ বার ৫০০/১০০০ টাকা করে পেয়েছি। কিন্তু মূলধনের দেখা নেই। আমরা এই সমিতিতে সঞ্চয় করে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা বার বার তাদের অফিসে গিয়ে আশ্বাস আর হুমকি-ধমকি ও গালিগালাজ শুনেছি।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান মিন্টুর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, একজন ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিয়ানীবাজার, সমবায় সমিতি, টাকা আত্মসাৎ প্রতারণা,