শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে সৎ ভাই-বোনদের সংবাদ সম্মেলন
অনিয়ম-দুর্নীতি
প্রকাশঃ ৭ জুলাই, ২০২৬ ১:৪৬ অপরাহ্ন
এক বছর আগে কাজ শুরু হয়েছিল। স্থানীয়দের আশা ছিল, বর্ষা আসার আগেই সেতুটি চালু হবে। কিন্তু কাজ এগোয়নি। তিন মাস আগে নির্মাণকাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি কাজের চার ভাগের এক ভাগও। নির্মাণসামগ্রী খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, আর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঘাছড়ার ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের সেতুর এমন চিত্র দেখা গেছে সরেজমিনে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে যায়, সেতুটি দক্ষিণ কানাইদেশী ও উত্তর কানাইদেশী গ্রামকে সংযুক্ত করেছে। এ পথ ব্যবহার করে ইউনিয়নের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ সেতুর পিলার ও আংশিক কাঠামো নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। নির্মাণস্থলে পড়ে থাকা রড, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী অযত্নে পড়ে আছে। কোথাও মরিচা ধরেছে, কোথাও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নির্মাণসামগ্রী।
এদিকে সেতুর পাশে চলাচলের জন্য একটি বিকল্প পথ তৈরি করা হয়েছে। তবে সেটি অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, ওই পথ থেকে পড়ে ইতিমধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা রুবেল মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকার নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ মিয়া বলেন, প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত চার ভাগের এক ভাগও শেষ হয়নি। চলতি বছরের মার্চেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি নেই। তিনি অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজের মান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
সেতু নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পরিচালক উত্তম কুমার স্বপনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে পরে কথা বলবেন জানান। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। ফলে কাজ বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল আজম বলেন, সেতুর নির্মাণস্থলের সাইনবোর্ডে কাজ শুরুর ও শেষ হওয়ার যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, তা ভুল। সংশোধনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি না করলে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।
মৌলভীবাজার, কমলগঞ্জ, বাঘাছড়া সেতু, নির্মাণাধীন সেতু, সেতু নির্মাণ, ইসলামপুর ইউনিয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প, সেতুর কাজ বন্ধ