২৯ জুন ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

সিলেট সীমান্তে ফের বাড়ছে অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২৮ জুন, ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন


সিলেট সীমান্তে ফের অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সিলেটের জকিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ওয়ান শুটার গান, ডেটোনেটর ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।


এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহুর্তে একইভাবে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্তে একের পর এক অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের চালান উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে নির্বাচনের পর বিস্ফোরক উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।  


সর্বশেষ শনিবার রাতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের সোনাসার এলাকায় বিজিবি ও র‌্যাব-৯-এর যৌথ অভিযানে একটি ওয়ান শুটার গান, ১১টি ডেটোনেটর এবং ১১টি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। 

জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) জানায়, সোনাসার ব্রিকস ফিল্ড এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবির ধারণা, বিস্ফোরকগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।


এর আগে ২৪ জুন দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে ৫২ বিজিবির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিন কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘পাওয়ার জেল-৯০ বিস্ফোরক, ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তৈরির তার এবং দুটি কুকরি চাপাতি। 


বিজিবির দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালালে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। পরে সীমান্তসংলগ্ন এলাকা তল্লাশি করে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।


সীমান্তঘেঁষা সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও সুযোগ পেলেই চোরাকারবারিরা নতুন কৌশলে সীমান্ত ব্যবহার করার চেষ্টা করে।


র‌্যাব-৯ এর তথ্য মতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৮টি দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ০৬টি ম্যাগাজিন, ৩৫৭৩০ গ্রাম বিস্ফোরক, ২২৪টি ডেটোনেটর, ০১টি সাউন্ড গ্রেনেড, ০৫টি পেট্রোল বোমা, ১১টি ককটেল এবং বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলিসহ ১৫৪টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে। 


জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সীমান্ত এলাকায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধারের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। পরে সীমান্তে কঠোর নজরদারির ফলে এমন ঘটনা কিছুটা কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরপর দুটি বড় অভিযানে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টি আবারও উদ্বেগ তৈরি করছে। 


র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, সীমান্তে অভিযানে জব্দ করা অস্ত্র ও বিস্ফোরক জকিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। 


বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস, সম্ভাব্য গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অস্ত্র ও মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।


বিজিবি জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিজিবির সতর্ক অবস্থানের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

সীমান্ত, অস্ত্র উদ্ধার, বিস্ফোরক উদ্ধার, জকিগঞ্জ, বড়লেখা, চোরাচালান

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ