১০ মে ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

চা-পাতার আড়ালে হাজারো মায়ের নীরব সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১০ মে, ২০২৬ ৬:৩৪ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

ভোর না হতেই সিলেটের চা-বাগানগুলোতে শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। মাথায় ঝুড়ি, হাতে কাঁচি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বাগানের দিকে হাঁটেন নারী শ্রমিকেরা। তাঁদের অনেকের কোলে থাকে ছোট শিশু, কেউ আবার সন্তানকে ঘরে রেখে কাজে যান। মা দিবসে শহরে যখন নানা আয়োজন আর শুভেচ্ছার ছড়াছড়ি, তখন চা-বাগানের বহু মায়ের জীবন কাটে এক নীরব সংগ্রামে।

মৌলভীবাজারের মাথিউরা চা-বাগানের শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, 'আমরা কষ্ট করি যাতে পোলাপান লেখাপড়া শিখতে পারে।'

চা-শ্রমিক পরিবারের অধিকাংশ নারীকেই সংসার ও কাজ দুই দায়িত্বই একসঙ্গে পালন করতে হয়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বাগানে কাজ করার পর ঘরে ফিরে রান্না, সন্তান দেখাশোনা, পানি আনা সবকিছু সামলাতে হয় তাঁদেরই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অনেক পরিবার এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত। শিশুদের পুষ্টিহীনতাও একটি বড় সমস্যা হয়ে আছে।

বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট জেলার সাংগঠনিক কমিটির সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস বলেন, নারী শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও তাঁদের জীবনমান এখনো তেমন বদলায়নি। বিশেষ করে মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র নেই অনেক বাগানে।

নগরীর লাক্কাতুরা চা-বাগানের রনু বাউরি বলেন, 'শিশু অসুস্থ থাকলেও কাজ করতে যাইতে হয়। না গেলে হাজিরা কাটে। আমাদের অনেক কষ্ট করে জীবন কাটাতে হয়।'

তবে হতাশার মাঝেও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা যাচ্ছে। অনেক মা এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী। কেউ চান ছেলে শিক্ষক হোক, কেউ চান মেয়ে নার্স হোক। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, শিক্ষাই পারে প্রজন্মের দারিদ্র্য ভাঙতে।

মালনীছড়া চা-বাগানের নমিতা রায় বলেন, কষ্ট হলেও আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েদের যেনো এখানে কাজ করতে না হয়। যত কষ্ট করে হোক ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা করানোর ব্যাপারে আগের থেকে আমাদের চা শ্রমিকরা অনেক সচেতন হয়েছে। বিশেষ করে মায়েরা এখন সচেতন ছেলে মেয়েকে জোর করে স্কুলে পাঠায় তারা।

এদিকে মা দিবস নিয়ে চা-বাগানে আলাদা কোনো আয়োজন নেই। অনেকেই হয়তো দিনটির কথা জানেন না। তবে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য প্রতিদিন যে শ্রম তাঁরা দেন, সেটিই মাতৃত্বের সবচেয়ে বাস্তব রূপ। চা-বাগানের অপার সবুজের আড়ালে লুকিয়ে আছে হাজারো মায়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন একদিন হয়তো বদলে দেবে পুরো একটি প্রজন্মের জীবন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, চা বাগান, শ্রমিক, মা দিবস, মা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ