
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য আস্থার জায়গা না হয়ে আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে ঝাড়ুদার ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মাধ্যমেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে, যা রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের পরিবর্তে সেবা দিচ্ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা। রোগীদের ইনজেকশন দেওয়া, ড্রেসিং করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাপত্র দেওয়ার মতো কাজও তাদের দ্বারা সম্পন্ন হচ্ছে। হাসপাতালে মোট ৭ জন চিকিৎসক ও ১৯ জন নার্স কর্মরত থাকলেও তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে, ঝাড়ুদারের সংখ্যা ৫ থেকে ৬ জন হলেও তাদের মূল দায়িত্ব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। কিন্তু বাস্তবে তারা আউটডোরে প্রেসার মাপা, রোগীদের টিকেট দেওয়া, জরুরি বিভাগে ড্রেসিং ও সেলাই করা এবং ওয়ার্ডে ইনজেকশন দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসপাতালের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। ভেতরে প্রবেশ করলেই তীব্র দুর্গন্ধে নাক বন্ধ হয়ে আসে। ওয়ার্ডের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে রক্তমাখা তুলা, ব্যবহৃত ব্যান্ডেজ ও সিরিঞ্জ। শৌচাগারগুলোর অবস্থা এতটাই নাজুক যে সুস্থ মানুষও সেখানে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে, যা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ওয়ার্ডের বাথরুমগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। অনেক রোগী বাথরুম ব্যবহার করে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালে এসেছি সুস্থ হতে, কিন্তু এখানে এসে মনে হচ্ছে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ব। ডাক্তার পাওয়া যায় না, ঝাড়ুদাররাই সব করছে। এটা হাসপাতাল না কসাইখানা বোঝা মুশকিল।
হাসপাতালে সরকারি ক্লিনার রয়েছেন মাত্র একজন। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নারী-পুরুষ মিলিয়ে আরও ৬ জন কর্মী কাজ করছেন। কিন্তু এত কম জনবল দিয়ে পুরো হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
নার্স ইনচার্জ জেরিনা বেগম বলেন, “আমাদের আরও ক্লিনার ও আয়া প্রয়োজন। এত কম লোক দিয়ে কাজ চালানো কঠিন। দুর্গন্ধের কারণে রোগীদের পাশাপাশি আমরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। হাসপাতালের কিছু সংস্কার প্রয়োজন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কৃপেশ রায় বলেন, আমাদের জনবল কম। সরকারি ক্লিনার একজন, আউটসোর্সিংয়ের ৬ জন রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে আরও জনবল প্রয়োজন। যারা দায়িত্ব পালন করবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেয়ার করুনঃ
অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে আরো পড়ুন
সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ডাক্তার, স্বাস্থ্যসেবা


