সিলেটের ৭ শতাধিক বছরের ঐতিহ্য ‘লাকড়ি তোড়া উৎসব’ পালিত
শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি
প্রকাশঃ ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০৬ অপরাহ্ন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব, কবি ও গল্পকার ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেছেন, ‘মানুষ মরণশীল, জীবন যেখানে আছে স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যুও আছে। সৃজনশীলতা ছাড়া যে জীবন সে জীবন মৃত্যুর সমতুল্য। আমাদের জীবনে আনন্দের বড় অভাব, ভালো সৃজনশীল কাজের আনন্দ যে পেয়েছে সে বিপথে যেতে পারে না। আমাদের দেশ তথা বিশ্বের জন্য ভালো মানুষের খুব বেশি প্রয়োজন। একটি সুন্দর আগামীর জন্য আমাদের সবাইকে সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের দরগা গেইটস্থ শহীদ সুলেমান হলে উৎস প্রকাশনের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আনন্দ সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা সাহিত্যচর্চা করেন তাদের একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, সাধারণের বাইরে ভাবনা করাই কবি সাহিত্যিকের কাজ, যা সবাই চিন্তা করে না তা আপনাকে চিন্তা করতে হবে। আমাদেরকে আর সবার চিন্তার বাইরে চিন্তা করতে, ভাবতে হয়। শুধু কাব্য সাহিত্যের ক্ষেত্রে নয়, এটা সমাজ বিনির্মাণে প্রয়োগ করতে হবে। আমরা অনেক সময় অনেক কথা, বক্তব্য শুনি। এক কান দিয়ে শুনি আর অন্য কান দিয়ে বের করে দিই। কিন্তু যুগ যুগ ধরে যেসব সাহিত্য কর্ম রচনা হয়েছে তা ঠিকই আমরা মনে রেখেছি। কবি সাহিত্যিকেরা জাতির পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখতে হবে। সবার অন্তরে এমন একটা আলো জ্বালানো দরকার যেটা চোখ বুঝলেও জ¦লতে থাকে।’
কবি ধ্রুব গৌতমের সঞ্চলনায় ও লেখক হিসাববিদ মসিহ্ মালিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উৎস প্রকাশনের কর্ণধার গবেষক মোস্তফা সেলিম।
তিনি উৎস প্রকাশনের সকল পাঠক শুভানুধ্যায়ী ও উপস্থিত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘উৎস প্রকাশন ২০০১ সালে প্রথা বিরোধী প্রকাশনা নিয়েই তার যাত্রা শুরু করে। আমরা শুরু থেকে সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধির শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত বইটি পুণর্প্রকাশ করি। আমরা আরও একটি মাইলফলক রচনা করি। সিলেটের বিস্তৃত প্রায় নাগরী লিপি নিয়ে গবেষণা এবং তা সিলেটি ভাষাভাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করি। আমরা এ কাজ করতে গিয়ে দেখি আমাদের প্রজন্ম কিংবা তার আগের প্রজন্মের অনেকের কাছে নাগরী লিপি ছিল অজানা। আমরা সিলেটে নাগরী লিপি উৎসব আয়োজন করে বিভিন্ন স্কুল কলেজে নাগরী লিপিতে রচিতগ্রন্থ সংকল প্রদান করি। নাগরী লিপিকে পুনর্জীবিত করতে উৎস প্রকাশের কার্যক্রম সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। আমাদের এ পথচলায় লেখক, গবেষক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী আপনাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল। আপনাদের ভালোবাসায় উৎস প্রকাশনের আগামী দিনে পথ চলা আরও মসৃণ হবে এই কামনা করি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, কবি ও গবেষক সৈকত হাবিব।
আনন্দ সমাবেশে অতিথির বক্তব্য দেন, কবি ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, কবি ও গবেষক এ কে শেরাম, কবি গবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, গল্পকার জামান মাহবুব, কবি ও গবেষক মোস্তাক আহমাদ দীন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো, নাট্যব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম বাবু, লোকসাহিত্য ক্যাটাগরিতে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লোক সংস্কৃতি গবেষক ও প্রাবন্ধিক সুমনকুমার দাশ, কবি পুলিন রায়, কবি বিপ্লব নন্দী, লোকগবেষক পার্থ তালুকদার, শিল্পী খোকন ফকির ও শিল্পী ইকবাল সাঁই প্রমুখ।
উৎস প্রকাশনের সৃজনশীল আর ঐতিহ্যকে ধারণ করে পথচলা যেন আরও মসৃণ হয় এই কামনা করেন বক্তারা।
আলোচনা শেষে সিলেটের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে ১০ খণ্ডের সংকলন ‘সিলেট মঞ্জুষা: ঐতিহ্যের দিকে নিবিড়ভাবে তাকিয়ে দেখা’ গ্রন্থের প্রকাশনা উদযাপন করা হয়।
আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে কবি ও গল্পকার ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া রচিত কবিতা পাঠ উপভোগ করেন উপস্থিত শ্রোতারা। কবিতা পাঠ করেন কবি পুলিন রায়, মাসুদা সিদ্দিকা রুহি, ধ্রুব গৌতম, সেলিম আর রাজী, ইশরাক জাহান জেলি ও সানোয়ারা চিনু।
উৎস প্রকাশন, রজতজয়ন্তী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়, জ্যেষ্ঠ সচিব, ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া