২৬ মে ২০২৬

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি / শিল্প

ব্যয় বাড়লেও ঈদের বাজারে মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন সিলেটের কামাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন

ছবিঃ নগরীর আম্বরখানা এলাকার কামারপল্লিতে কাজ করছেন কামারিরা। ছবি: সিলেট ভয়েস

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিলেটের কামারপল্লিগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকেরা। আগুনের ভাটিতে লোহা পুড়িয়ে তৈরি হচ্ছে ছুরি, দা, চাপাতি, বঁটি ও কোরবানির নানা সরঞ্জাম। তবে বছরের সবচেয়ে বড় এই মৌসুমেও স্বস্তিতে নেই কামাররা। কয়লার দাম বৃদ্ধি, দোকান ও বাসাভাড়া, শ্রমিক খরচ এবং কাঁচামালের বাড়তি দামে আগের মতো লাভ করতে পারছেন না তারা। তারপরও ঈদের বাজার ঘিরে নতুন আশায় দিন পার করছেন কারিগরেরা।


নগরীর আম্বরখানা, কাজিটুলা, শেখঘাট এলাকার বিভিন্ন কামারপল্লিতে এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। ভাটির আগুন আর হাতুড়ির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে এসব এলাকাগুলো।

আম্বরখানা এলাকার কামারপল্লিতে কাজ করছিলেন কারিগর নিখিল রঞ্জন দাস। লাল হয়ে ওঠা লোহায় হাতুড়ির আঘাত করতে করতে তিনি বলেন, আমরা নিজেরাই ভালো মানের ছুরি চাকু তৈরি করি। প্রতিটি পণ্যে আমাদের আলাদা মনোগ্রাম ও নম্বর থাকে। বাজারে কিছু নিম্নমানের পণ্য আছে, কিন্তু সেগুলো আমাদের তৈরি নয়।

তবে পণ্যের চাহিদা বাড়লেও খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে গেছে জানিয়ে নিখিল বলেন, কয়লার দাম অনেক বেড়ে গেছে। এখন কয়লা পাওয়াও কঠিন। আগে কম দামে বিক্রি করেও কিছু লাভ থাকত, এখন বেশি দামে বিক্রি করেও লাভ হয় না। কয়লা, মেশিন, ঘরভাড়া সবকিছুর খরচ বেড়েছে।


তিনি জানান, ছোট ছুরি ১০০ টাকা থেকে শুরু হলেও বড় জবাই ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের চাপাতি ও ব্লেডের দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।

নিজেদের আর্থিক সংকটের কথাও তুলে ধরে নিখিল বলেন, আমাদের কোনো বড় মূলধন নেই। প্রতিদিন যা আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। দোকানভাড়া বা বাসাভাড়া সময়মতো দিতে পারি না। সঞ্চয়ও নেই বললেই চলে।

প্রায় ৪০ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত স্বদেশ চন্দ্র দে। করতে করতে সিলেট ভয়েসের এ প্রতিবেদকের সাথে তিনি কথা জানান, কোরবানির ঈদকে ঘিরেই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়। এই সময়টিতে সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

তিনি বলেন, ঈদের আগে সাধারণত ১৫ দিন খুব ব্যস্ত সময় কাটে। তখন অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত দম ফেলার সুযোগ থাকে না। কোরবানির সময় ছুরি–চাকুর চাহিদা অনেক বেড়ে যায়।

তবে এবার এখনো পুরোপুরি বাজার জমে ওঠেনি জানিয়ে স্বদেশ বলেন, আরও দুই-চার দিন গেলে বাজার জমবে। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ডার কিছুটা কম। তারপরও আশা করছি সামনে বিক্রি বাড়বে।

এই পেশায় দীর্ঘদিন থেকে যুক্ত এক কারিগর রতন রায়ও একই ধরনের অভিজ্ঞতার জানিয়ে বলেন, সারা বছর ছুরি–চাকু তৈরির কাজ করলেও কোরবানির সময়ই সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে। এই কয়েক দিনের ব্যবসা থেকেই সারা বছরের বড় অংশের আয় আসে।


বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখনো মোটামুটি বিক্রি হচ্ছে। তবে সামনে বাজার আরও জমে উঠবে বলে আশা করছি। গত বছরের তুলনায় এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো মনে হচ্ছে।


শেয়ার করুনঃ

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি থেকে আরো পড়ুন

সিলেট কামারপল্লি, কোরবানির ঈদ বাজার, ছুরি চাকুর বাজার, কামারদের ব্যস্ততা, সিলেট সংবাদ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ