যাদুকাটায় তীর কেটে বালু লুট, ৬ জনকে আসামি করে মামলা
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২ মে, ২০২৫ ৩:১২ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রণভূমি গ্রামে ধান পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ঘটনাটি নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
বুধবার বিকেলে রণভূমি গ্রামের বাসিন্দা আশিক মিয়া ও যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শফিক চৌধুরীসহ তাঁদের পক্ষের লোকজন স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, ’সম্প্রতি আমাদের গ্রামের কালা শাহ মিয়ার ধান কে বা কারা পুড়িয়ে দিয়েছে। এটি নিন্দনীয় কাজ। আমরা প্রকৃত দোষীদের বিচার চাই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে কালা শাহ থানায় অভিযোগ করেছেন, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
আশিক মিয়া ও শফিক চৌধুরী দাবি করেন, ‘৯ মার্চ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কালা শাহ পক্ষের সঙ্গে আমাদের সংঘর্ষ হয়। সে ঘটনায় তাদের পক্ষের লোকজন অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের ১৮ জনকে আহত করে। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করি। আমাদের ধারণা, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তারা নিজেরাই ধান পুড়িয়ে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে।’
অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত কালা শাহ অভিযোগ করে বলেন, ’আমার ১২ কিয়ার জমির ধান কেটে হাওরে স্তুপ করে রেখেছিলাম। পাহারা দেওয়ার সময় রাতের আঁধারে আশিক মিয়া, শফিক, রুবেল, সত্তার, পাবেলসহ ১০-১২ জন আমাদের হাত ও চোখ বেঁধে ধানে আগুন লাগিয়ে দেয়।’
প্রথমে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ’রাতে দু’একজনকে চিনতে পারলেও বাকিদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে সময় লেগেছে, এজন্য প্রথমে নাম বলিনি।’
তবে ধান কাটার শ্রমিক আবুল কালাম বেপারী কালা শাহের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, ’১২ কিয়ার নয়, ৭ কিয়ার জমির ধান কেটে দুইটি স্তুপে রাখা হয়েছিল।’
এ বিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, ’ধান পুড়ানোর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। তদন্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হববে।’
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বরাম হাওরে স্তুপ করে রাখা ধানে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সুনামগঞ্জ, দিরাই, রণভূমি গ্রাম, ধান পুড়ানো, জমি বিরোধ