০৪ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

সিলেটে অতিবৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ৩ মে, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন


সিলেট বিভাগে চলতি মৌসুমে গড়ে ৫৭ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৭৫ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ৩৩ শতাংশ ধান কাটা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। 

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, রোববার (৩ মে) পর্যন্ত চলতি মৌসুমে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৩৩ হাজার ৯১৩ হেক্টর জমির ধান অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিতে তলিয়ে গেছে। 

 

এদিকে বিভাগের বিভিন্ন হাওরে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ শতাংশ পাকা ধান ডুবে রয়েছে, যা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ অবস্থায় বড় ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা।

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কৃষক মো. রেজুয়ান মিয়া জানান, টানা কয়েকদিন বৃষ্টির ফলে জমি পানিতে ডুবে গেছে। ধান কাটার যন্ত্র ও শ্রমিক সংকট থাকায় তারা নিজেরাই পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন।

 

তিনি বলেন, ’৩৩ কিয়ার (বিঘা) জমির মাঝে মাত্র ১২ কিয়ার জমির ধান কাটা শেষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ৭ কিয়ার জমির ধান খলার মাঝে রইছে। রইদের লাগি শুকাতে পারছি না। বাকি ২১ কিয়ার জমি এখনও পানির নিচে, যা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিই বেশি।’ এ অবস্থায় ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। হাওর এলাকার এখনো ডুবে থাকা প্রায় ২৫ শতাংশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

 

তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি মাড়াইয়ের সময় খোলা স্থানে থাকা ধানও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার হিসাব করা হচ্ছে।’


তবে আবহাওয়া অনুকূলে এলে নন-হাওর এলাকার পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলেও জানান ড. মো. মোশাররফ হোসেন। 


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

কৃষি, ফসলহানী, সিলেট বিভাগ, ক্ষয়ক্ষতি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জলাবদ্ধতা, অতিবৃষ্টি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ