
সকালের আলো ফোটার আগেই প্রতিদিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিলেন আজির উদ্দিন (৩২) ও তার ছোট ভাই আমির উদ্দিন (২৮)। চোখে ছিল দারিদ্র্যতা ঘোচানোর স্বপ্ন, বুকে ছিল পরিবারকে একটু ভালো রাখার অদম্য চেষ্টা। কিন্তু সেই স্বপ্নভরা যাত্রাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল জীবনের শেষ সফর।
রোববার (৩ মে) ভোরে সিলেট নগরীর লালাবাজার এলাকায় নির্মাণশ্রমিক বহনকারী পিকআপভ্যান ও কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান দুই ভাইসহ অন্তত আটজন। ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন, পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
নিহত আজির ও আমির সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখোলা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচাতে এক বছর আগে তারা সিলেটে আসেন। নগরীর আম্বরখানা এলাকার লোহাড়পাড়ায় ভাড়া বাসায় থেকে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন দুই ভাই। প্রতিদিন একসঙ্গে কাজ, একসঙ্গে ফেরা—এভাবেই চলছিল তাদের জীবন।
পরিবার জানায়, বড় ভাই আজির অবিবাহিত ছিলেন। আর ছোট ভাই আমির উদ্দিনের সংসারে রয়েছে তিন সন্তান। দুই ভাইয়ের আয়ে কোনোভাবে টিকে ছিল পুরো পরিবার। কিন্তু একই দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে তাদের সব স্বপ্ন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আজির–আমিরের বাবা আব্দুল গফফার ও মা শমছুরনাহার অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তারা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের মামা সোহেল আহমদ।
তিনি বলেন, “দুই ভাই খুবই পরিশ্রমী ছিল। প্রতিদিনের মতোই কাজে গিয়েছিল, আর ফিরল না। তাদের আয়ে পুরো পরিবার চলত। এখন পরিবারটা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল।”
তিনি আরও জানান, তিন বছর আগে পরিবারের বড় ভাই আলাউদ্দিন কুকুরের কামড়ে মারা যান। এদিকে আজির-আমিরের একমাত্র বোন সেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী)। বর্তমানে মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, সম্প্রতি তার পায়ে অপারেশন করে রড বসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দারিদ্র্যই দুই ভাইকে গ্রাম ছেড়ে শহরে এনেছিল। কিন্তু ভাগ্য তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও নির্মম এক পরিণতি।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
সিলেট দুর্ঘটনা, লালাবাজার ট্র্যাজেডি, নির্মাণ শ্রমিক মৃত্যু, আজির উদ্দিন আমির উদ্দিন, পিকআপ ট্রাক সংঘর্ষ


