
ভোরের আলো ফুটতেই প্রতিদিনের মতো কাজে বের হয়েছিলেন লাবু বেগম। মাথায় ছিল সংসারের দায়িত্ব, আর দিন শেষে কিছু আয় নিয়ে ঘরে ফেরার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নভরা যাত্রাই পরিণত হলো এক নির্মম দুর্ঘটনায়, যা পাল্টে দিল তার জীবনের গতিপথ।
রোববার (৩ মে) ভোরে সিলেটের লালাবাজার এলাকায় শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ ভ্যান ও কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
লাবু বেগম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন।
বর্তমানে তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে পরিবার জানিয়েছে, তিনি এখনো জানেন না যে তার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
স্বজনরা জানান, স্বামীর পাশাপাশি লাবু বেগমই ছিলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম সদস্য। প্রতিদিন ভোরে কাজে বের হওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন।
এক স্বজন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওই হাত দিয়েই তো সব করতেন—রান্না, কাজ, সংসার… এখন কিভাবে চলবে?”
তার চাচা ফুলকান মিয়া বলেন, “তিনি খুবই পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তাকে বলা হয়েছে, মেশিনে আঘাত লেগেছে, ব্যান্ডেজ করা হয়েছে—আসল ঘটনা এখনো জানানো হয়নি।”
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।
এদিকে হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৬টার দিকে নগরীর আম্বরখানা থেকে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক একটি ডিআই পিকআপ ভ্যানে করে ঢালাই কাজে যাচ্ছিলেন। ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে দক্ষিণ সুরমার তেতলী এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জন মারা যান। মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় ৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন—সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ইদ্রিস আলীর স্ত্রী নার্গিস, দিরাই উপজেলার বসির মিয়ার মেয়ে মুন্নি মনি, নূর সালামের ছেলে ফরিদুল, মৃত ফকরুল আলীর ছেলে সুরুজ আলী, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের কুঠির বিশ্বাসের ছেলে পান্ডব বিশ্বাস, পুটামারা গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে বদরুল জামান, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আজির উদ্দিন ও তার ভাই আমির উদ্দিন।
আহতরা হলেন—হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রফিক মিয়ার ছেলে আলমগীর, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মল্লিক মিয়ার ছেলে আফরোজ মিয়া, একই এলাকার মৃত শুক্কুর উল্লাহর ছেলে তুরাব উল্লাহ, মৃত আলীম উদ্দিনের ছেলে রামিন, তাহিরপুর উপজেলার লাবু বেগম এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামানের স্ত্রী হাফিজা বেগম।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
সিলেট দুর্ঘটনা, লালাবাজার সংঘর্ষ, শ্রমিক মৃত্যু, লাবু বেগম আহত, সড়ক দুর্ঘটনা

