০৪ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

শাল্লায় 'ঠিকাদার-প্রকৌশলী সিন্ডিকেট', বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, শাল্লা, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৯ জুলাই, ২০২৫ ১০:০০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শাহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এসব অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে, ভবন নির্মাণে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলাল নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর এই নীরবতায় প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। 


স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে ‘ম্যানেজ’ করেই ঠিকাদার অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ করে নিচ্ছেন।


সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় 'বাসেত ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড' ও 'জাহানারা এন্টারপ্রাইজ' নামে দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।


এরইমধ্যে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে গত ৫ মে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেন। পরে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজও ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। 


এরপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান সরেজমিনে এসে অনিয়মের সত্যতাও পান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।


পরবর্তীতে ২ জুন ফের নিম্নমানের মাটি-মেশানো কালো বালু দিয়ে ছাঁদ ঢালাই করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। 


সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের বালি, খোয়া, ইট ও সিমেন্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। সিমেন্টের পরিমাণ কম ও বালির পরিমাণ বেশি। কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই এসব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ঠিকাদার নজরুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আরিফ মোহাম্মদ দুলালের সঙ্গে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে বিদ্যালয়ে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম বলেন, 'এর চেয়ে ভালো বালু দেশে নাই। এসব দিয়াই তো দেশ চলতেছে। সরকার বর্ডারে বালু আটকে রাখছে। এগুলো অন্যায়, আপনারা এগুলা লিখেন।' তিনি বলেন, 'সারা দেশেই বালু সংকট রয়েছে।'


সিন্ডিকেটের বিষয়টি অস্বীকার করে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ বলেন, 'আমি সপ্তাহ খানেক ওইখানে যাইনি। এখন কি ধরনের বালু আনা হয়েছে তা দেখিনি। দেখলে বলতে পারব।'


বরাদ্দ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কাগজ দেখে বলতে হবে।' পরবর্তীতে তিনি জানান, বালুর এফএম ঠিক আছে।' তবে মাটি মেশানো বালুর টেস্ট করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।


বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, 'স্কুলের ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।' এসময় তিনি সুষ্ঠু নির্মাণ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, 'সেখানকার কিছু বালুর স্যাম্পল নিয়ে কাউকে দিয়ে আমার অফিসে পাঠিয়ে দিন। আমি ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করাবো।' 


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

শাল্লা স্কুল ভবন নির্মাণ দুর্নীতি,১৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনিয়ম,ঠিকাদার নজরুল ইসলাম দুর্নীতি

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ