০৪ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

জগন্নাথপুরে উপবৃত্তির প্রলোভনে মাদরাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা

প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৪ মে, ২০২৬ ১২:৩০ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন ইসহাকপুরস্থ আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদরাসার এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয় স্থানীয় জনতা। আহতাবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।

 

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সামসুল হুদা। তিনি ওই মাদরাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায়। 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শনিবার (২ মে) মাদরাসার বন্ধ থাকা সত্ত্বেও উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে ডেকে আনেন তিনি। পরে শিক্ষক মিলনায়তনে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যার দিকে উত্তেজিত জনতা শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয়। 

 

স্থানীয় সূত্রে  জানা যায়, সামসুল হুদার বিরুদ্ধে এর আগেও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ছিল। ২০১৫ সালে যোগদানের পর মুঠোফোনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের দায়ে থানায় অভিযোগ হলে তিনি বরখাস্ত হয়েছিলেন। তবে ২০১৮ সালে গভর্নিংবডির হস্তক্ষেপে তিনি পুনরায় নিয়োগ পান। 

 

এ বিষয়ে মাদরাসা সুপার মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম নিজামী জানান, ঘটনার সময় তারা কেউই মাদরাসায় উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং গভর্নিংবডির অনুমতি ছাড়া এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

 

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরুপ কুমার রায় বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরও জানান, সামছুল হুদা সিলেট ওসমানীতে ভর্তি আছেন বিষয়টি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।।

 

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একটি ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালনা করছে। মাদরাসার সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

মাদরাসাছাত্রী, শ্লীলতাহানির চেষ্টা, জগন্নাথপুর

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ