উজানে মেঘালয়ে অতি ভারী বর্ষণ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাড়ছে পানি বৃদ্ধির শঙ্কা
সুনামগঞ্জে ১৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি, জাফলংয়েও ১২৩ মিলিমিটার
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১:১৫ অপরাহ্ন
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জে। এ সময়ে জেলায় ১৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জের মহেশখোলায় ১৭৩ মিলিমিটার এবং সিলেটের জাফলংয়ে ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে ভারতের মেঘালয়েও অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের উজানেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বাড়াতে পারে।
দেশের অভ্যন্তরে ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৯৭ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জে। এরপর মহেশখোলা (সুনামগঞ্জ) ১৭৩ মিলিমিটার, দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) ১৫৭ মিলিমিটার, জারিয়াঞ্জাইল (নেত্রকোণা) ১২৫ মিলিমিটার, জাফলং (সিলেট) ১২৩ মিলিমিটার, নাকুয়াগাঁও (শেরপুর) ১১০ মিলিমিটার এবং নরসিংদীতে ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এছাড়া ৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে লরেরগড় (সুনামগঞ্জ) ৭৯ মিলিমিটার, ময়মনসিংহ ৭৯ মিলিমিটার, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) ৬৭ মিলিমিটার, চাঁদপুর ৬৬ মিলিমিটার, বান্দরবান ৬১ মিলিমিটার, ছাতক (সুনামগঞ্জ) ৫৭ মিলিমিটার, কক্সবাজার ৫৪ মিলিমিটার, মাদারীপুর ৫০ মিলিমিটার এবং হরিদাসপুর (গোপালগঞ্জ) ৫০ মিলিমিটার।
উজানের তথ্যেও ভারী বর্ষণের চিত্র উঠে এসেছে। মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ১৮৩ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ১৭৪ মিলিমিটার, বাগমারায় ১৬১ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে ৮৩ মিলিমিটার, মেঘালয়ের আর কে এম সোহরায় ৭০ মিলিমিটার, খিলহরিয়াতে ৫৮ মিলিমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাপাউবো) জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি উজানের ভারী বর্ষণের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে নদ-নদীর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত, সিলেটে বৃষ্টি, জাফলং বৃষ্টিপাত, সুনামগঞ্জ ১৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি, উজানের বৃষ্টি, বন্যা পূর্বাভাস, বাপাউবো