০২ আগস্ট ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / পরিবেশ

কচুরিপানা-আবর্জনার দখল থেকে মুক্ত হচ্ছে ঘাসিটুলার ঐতিহাসিক পুকুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৬ ২:১৩ অপরাহ্ন


আজ কচুরিপানা, কাল ময়লার স্তূপ, পরশু মাটি ভরাট এভাবেই ধীরে ধীরে একটি জলাশয়, পুকুর বা দিঘির মৃত্যু ঘটে। অথচ শহরের এই জলাশয়, পুকুর ও খালগুলো কেবল পানির আধার নয়, একেকটি নগরের প্রাণও বটে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, আবর্জনা আর কচুরিপানার দখলে থাকা তেমনই এক বিশাল জলাশয়কে হারানো সৌন্দর্যে ফেরাতে মাঠে নেমেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।


রোববার (২ আগস্ট) সকালে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা কবরস্থান-সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে এই পরিচ্ছন্নতা ও জলাশয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় ২০০ শতক জায়গাজুড়ে বিস্তৃত ঐতিহাসিক এই পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। চারপাশ আগাছা, ময়লা-আবর্জনা আর কচুরিপানায় ছেয়ে যাওয়ায় একসময়ের নান্দনিক জলাশয়টি পরিণত হয়েছিল পরিবেশের জন্য হুমকিতে। ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, আর পুকুরটি হয়ে উঠেছিল মশার নিরাপদ প্রজননস্থল। অথচ একসময় শীত এলেই অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর হয়ে উঠত এই পুকুরপাড়। পরিবেশ দূষণে হারিয়ে গিয়েছিল সেই চিরচেনা রূপ।


নগরীর পরিত্যক্ত জলাশয়গুলো উদ্ধার করে পরিবেশবান্ধব করে তোলা এবং মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন সিসিক প্রশাসক। এরই অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে ঘাসিটুলা-সংলগ্ন এই জলাশয় উদ্ধারের কাজ। রোববার সকালে উদ্ধার কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, একসময় নগরীতে প্রচুর দিঘি, পুকুর ও জলাশয় ছিল, যা মানুষের উপকারে আসার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করত। আমরা চাই জলাশয়গুলো যথাসম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। কদিন আগেও আমরা আরেকটি পুকুর উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি।


উদ্ধারকৃত এই পুকুরকে ঘিরে এলাকাবাসীর জন্য বিনোদন ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশ গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিসিক। প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, পুকুরটি উদ্ধারের পর এর চারপাশে নির্মাণ করা হবে ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা রেলিং। এতে একদিকে যেমন বাড়বে পরিবেশের সৌন্দর্য, তেমনি নগরবাসী পুকুরপাড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাহাঁটি ও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে পারবেন। শীতকালে আবারও ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি অতিথি পাখির দলও।


তবে শুধু সরকারি উদ্যোগেই এই পুকুর রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সিসিক প্রশাসক। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, নিজের বাড়ির মতো করেই এই পুকুরের যত্ন নিতে হবে, আর কেউ যেন পুনরায় এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে সবাইকে। জলাশয় রক্ষা কেবল সরকারের নয়, প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকেরও কর্তব্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।


উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

কচুরিপানা, আবর্জনা, জলাশয় উদ্ধার, সিলেট সিটি করপোরেশন, ঘাসিটুলা পুকুর, পরিবেশ দূষণ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ