জগন্নাথপুরে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ: চারজনেরই মরদেহ উদ্ধার
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:১৫ অপরাহ্ন
আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২ আগস্ট আন্দোলনকারীদের ভাষায় ‘৩৩ জুলাই’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক অগ্নিগর্ভ দিনের সাক্ষী হয়েছিল সিলেট ও হবিগঞ্জ। শুক্রবার দিনটিতে পূর্বঘোষিত গণমিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে সিলেট নগরীর একাধিক এলাকা, আর হবিগঞ্জে প্রাণ হারান একজন যুবক।
সেদিন জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক শহীদ রুদ্র তোরণের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। কেবল শিক্ষার্থী নয়, মিছিলে শামিল হন সাধারণ মানুষও। বেলা ৩টার দিকে মিছিল রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ বাধা দেয়। সেই বাধা ঠেলে মিছিলটি মদিনা মার্কেটের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
পুলিশি বাধার পরও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা ও বাগবাড়িসহ আশপাশের এলাকায়। একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হতে থাকে গোটা নগরী।
এই সংঘর্ষের মধ্যে আখালিয়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয় মাত্র ১২ বছর বয়সী শিশু শফিক আলী। এমনকি নিজেদের ছোড়া গুলিতে আহত হন কয়েকজন পুলিশ সদস্যও। শটগানের ছররা গুলিতে আহত হন সংবাদ সংগ্রহে থাকা কয়েকজন সাংবাদিকও।
আতঙ্কের কারণে সেদিন সরকারি হাসপাতালমুখী হননি অনেক আহত ব্যক্তি। বেসরকারি হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের বাড়িঘরেই চলে তাঁদের চিকিৎসা—ফলে প্রকৃত আহতের সংখ্যা আজও অজানা।
এই দিনেই প্রথমবারের মতো সিলেটবাসী প্রত্যক্ষ করেন পুলিশি নৃশংসতার ভয়াবহতা। আখালিয়া, মদিনা মার্কেট ও বাগবাড়ি এলাকার অসংখ্য বাসাবাড়ি সেদিন আন্দোলনকারীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন স্থানীয় সাধারণ মানুষও।
একই দিন হবিগঞ্জেও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ। জুমার নামাজের পর বোর্ড মসজিদের সামনে গণমিছিলের প্রস্তুতি নেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এর বিপরীতে পূর্ব টাউন হল এলাকায় অবস্থান নেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মিছিল শুরু হলে বেলা ৩টার দিকে টাউন হল এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এর জেরে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু জাহিরের বাসভবনেও হামলা চালান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন এবং প্রাণ হারান মুস্তাক আহমদ নামের এক যুবক।
এই সংঘর্ষের একদিন আগে, ১ আগস্ট আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বাকের মজুমদার ডিবি হেফাজত থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তাঁরা এক যৌথ বিবৃতিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন এবং আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করেন।
সেদিনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সারাদেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, বিচার ও শেখ হাসিনার ক্ষমাপ্রার্থনাসহ নয় দফা দাবিতে ৩ আগস্ট সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ৪ আগস্ট থেকে ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দেন সমন্বয়কেরা।
পুলিশি নৃশংসতা, ছাত্র আন্দোলন, গণমিছিল, সংঘর্ষ, আহত, শফিক আলী