২১ জুলাই ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / শিক্ষা

বোনের স্বপ্নপূরণে নিজের ইচ্ছা বিসর্জন, বিসিএস প্রস্তুতিতে প্রিয়ন্তীর পাশে সুপ্রিয়া

প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ ২:০৭ অপরাহ্ন


কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর মাগুরা এলাকার দুই বোন সুপ্রিয়া সিনহা ও প্রিয়ন্তী সিনহা দুজনেই জন্ম থেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ। কিন্তু শরীরের এই সীমাবদ্ধতা তাদের মনের জোরকে দমাতে পারেনি। অভাব-অনটনের সংসারে থেকেও ছোট বোন প্রিয়ন্তী দেখছেন বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের কাজে লাগার স্বপ্ন।

সোমবার (২০ জুলাই) স্থানীয়ভাবে জানা যায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সুশীলা রাণী সিনহার এই দুই কন্যাসন্তানই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হয়ে জন্ম নেন। সংসারে টানাপোড়েনের কারণে বড় মেয়ে সুপ্রিয়ার লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি। নিজের অসমাপ্ত স্বপ্নের কথা ভুলে গিয়ে এখন তিনি সব শক্তি দিয়ে ছোট বোনকে এগিয়ে যেতে সাহস জোগাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে অনার্স ডিগ্রি নেওয়ার পর প্রিয়ন্তী সিনহা এখন ব্যস্ত বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। পড়াশোনায় মেধা থাকলেও পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় তার এই যাত্রা এখন অনিশ্চয়তার মুখে।

বিষয়টি নজরে আসার পর এগিয়ে আসে মাওলানা শাহ সৈয়দ রাশিদ আলী ফাউন্ডেশন। সহায়তার হাত বাড়ান প্রয়াত ডিআইজি জালাল আহমদের পরিবারও। এই সহযোগিতা প্রিয়ন্তীর জন্য নতুন করে আশা তৈরি করেছে।

সিনহা পরিবারের কর্তা সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক সময় ভূমি অফিসে সহকারী হিসেবে চাকরি করতেন, বর্তমানে অবসরে। চার সদস্যের পরিবারটি এখন প্রবল অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও দুই বোন কখনো পড়াশোনা বা স্বপ্ন থেকে মুখ ফেরাননি।

প্রিয়ন্তীর ইচ্ছা, বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে যুক্ত হয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখা। পরিবারের সদস্যরা চান, সমাজের সামর্থ্যবান ও দানশীল মানুষ এবং প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে তার এই স্বপ্নযাত্রায় সঙ্গী হোক।


প্রিয়ন্তীর বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে শিক্ষকতা করা। আমি বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তাই নিজের সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু আর্থিক সংকট আমার সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের সামর্থ্যবান ও দানশীল ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আমার আন্তরিক আবেদন আপনারা যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলে আমি আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব এবং একদিন একজন শিক্ষক হিসেবে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাব। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাই আমার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, বিসিএস, কুলাউড়া পৌরসভা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ