২১ জুলাই ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা / ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: বিচার নিয়ে শঙ্কা, টানা তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ

প্রতিনিধি, শাবিপ্রবি

প্রকাশঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৮ অপরাহ্ন


সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলের খাবারের মান নিয়ে মন্তব্য করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ন্যায্য বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে।


মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবন ১ এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘খাইরুল আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না’, ‘সাস্টিয়ান, এক হও, লড়াই করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।


সমাবেশে ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আদনান ফরহাদ বলেন, ‘একজনকে মারধর করে পরে ক্ষমা চাইলেই তো সব শেষ হয়ে যায় না। আমরা কোনো ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি না। সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দাবি, একজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কেউ রাজনৈতিক নেতা নই।’


ন্যায্য বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আদনান বলেন, ‘শঙ্কা আছে বলেই আমরা টানা কর্মসূচি পালন করছি। আমরা এখনো এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অনড়। যদি রায় আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে না মেলে, তাহলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’


আহত শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলামের বর্তমান অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘খাইরুলের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, আজ তিনি হামলার শিকার হয়েছেন, কাল অন্য কেউ হবেন না—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই যেকোনো চাপ আসুক, তিনি ন্যায্য বিচারের দাবিতে অনড় থাকবেন।’


সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—

  • হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
  • শাহপরান আবাসিক হলের প্রাধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • আহত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


গত শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের খাবারের মান নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক এলাকায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।


এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ওই দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিই এখন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল দাবি হয়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত না হলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।


শেয়ার করুনঃ

তথ্যপ্রযুক্তি-শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন

শাবিপ্রবি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, SUST, শাবিপ্রবি আন্দোলন, খাইরুল ইসলাম, শিক্ষার্থীকে মারধর, ছাত্রদল, শাবিপ্রবি ছাত্রদল, শাবিপ্রবি বিক্ষোভ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ