অপার সম্ভাবনা থাকলেও প্রত্যাশিত গতি নেই সিলেটের পর্যটনে
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন
বায়ুদূষণের কারণে সিলেট শহরে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার ৪৮৮ জনের অকালমৃত্যু ঘটছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য, যেখানে দেশের ছয়টি বড় শহরের বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল এই ছয় শহরে অতিসূক্ষ্ম বায়ুকণা পিএম ২.৫–এর কারণে প্রতিদিন গড়ে ২৪২ জনের অকালমৃত্যু হচ্ছে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জনে। এতে জাতীয়ভাবে প্রতিবছর প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
পিএম ২.৫ বলতে বোঝায় ব্যাসে ২ দশমিক ৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়েও ছোট অতিক্ষুদ্র বায়ুকণাকে, যা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে সক্ষম।
ছয় শহরের তুলনামূলক তালিকায় সিলেট সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি হলেও, প্রতিবছর প্রায় দেড় হাজার মানুষের অকালমৃত্যুর সংখ্যাটি নেহাত কম নয়। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকায় বছরে সবচেয়ে বেশি ৬৮ হাজার ৭০৩ জন এবং চট্টগ্রামে ১১ হাজার ২০২ জনের অকালমৃত্যু ঘটে। এরপর রাজশাহীতে ২ হাজার ৮২৭ জন, খুলনায় ২ হাজার ৬২৫ জন, সিলেটে ১ হাজার ৪৮৮ জন এবং সবচেয়ে কম বরিশালে ১ হাজার ৩৯৫ জন।
গবেষকেরা জানান, ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্লেষণ করা তথ্যে দেখা গেছে, সিলেটসহ ছয়টি শহরেই পিএম ২.৫–জনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা নগরাঞ্চলের বায়ুমানের ক্রমাবনতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন তাঁরা।
গবেষণায় বলা হয়েছে, পিএম ২.৫ সম্পর্কিত মৃত্যুর প্রধান কারণ ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ, যাতে জাতীয়ভাবে প্রতিবছর প্রায় ৩৭ হাজার ৫১৯ জন মারা যান। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৮১১ জনের মৃত্যু হয় বলে জানানো হয়েছে গবেষণায়। সিলেটেও এসব রোগই অকালমৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ (সি২এএইচআর) ইউনিট এই গবেষণাটি পরিচালনা করে। বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব তেহরান প্রেস থেকে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘পলিউশনে’ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা প্রায়ই বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আমাদের গবেষণা বলছে, এটি প্রতিবছর প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যুর কারণ এবং দেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের গবেষণার ফলাফল নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর এর বোঝা আরও বাড়তে থাকবে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুমানের নির্দেশিকা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে সিলেটসহ ছয় শহরের পিএম ২.৫–জনিত অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এড়ানো সম্ভব।
এ জন্য গবেষকেরা প্রমাণভিত্তিক বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণ, পিএম ২.৫ নির্গমনের প্রধান উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত নগর বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
সিলেট, বায়ুদূষণ, গবেষণা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়