চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চেয়েছেন ২,৫৭৮ বাংলাদেশি
প্রবাস
প্রকাশঃ ১৭ জুলাই, ২০২৬ ৩:৩৯ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যের সীমানা পেরিয়ে আইন ফাঁকি দেওয়ার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে ব্রিটিশ পুলিশের খাঁচায় বন্দি হয়েছেন দণ্ডিত ধর্ষক ফয়সাল আহমেদ। যুক্তরাজ্যে নিজের ৮ বছরের কারাদণ্ড এড়াতে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়া এই অপরাধীকে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ বাংলাদেশি নাগরিককে ধর্ষণ, নিপীড়নমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং শিশু অবহেলার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, সাজা এড়াতে ফয়সাল আহমেদ ফ্রান্সে পালিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছদ্মনাম ধারণ করেন এবং সেখানে নতুন জীবন শুরু করার চেষ্টা করছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি এড়াতে পারেননি তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যখন চেশায়ার পুলিশকে ক্রু এলাকার একটি বাড়িতে ডাকা হয়। সেখানে ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করেন যে, বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ তাকে কয়েক মাস ধরে উপর্যুপরি শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছেন। নির্মম বিষয় হলো, এই নির্যাতনের সময় আহমেদ ভুক্তভোগীর শিশু সন্তানকেও মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চেস্টার ক্রাউন কোর্টে দীর্ঘ ৯ দিনের বিচার প্রক্রিয়া শেষে জুরি বোর্ড আহমেদকে সবকটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু বিচারের চূড়ান্ত দিনে সাজার মুখোমুখি না হয়ে সে অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে আদালত থেকে পালিয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে।
আড়ালে থেকে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা এই পলাতক অপরাধীকে ধরতে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ফ্রান্সের প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ ডিরেক্টরেটের সাথে যৌথভাবে কাজ শুরু করেন। অত্যন্ত নিবিড় ও সমন্বিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ফরাসি পুলিশ ও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা ফ্রান্সে আহমেদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর গত ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে ফ্রান্স থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়।
আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ফয়সাল আহমেদকে সরাসরি ব্রিটিশ কারাগারের হেফাজতে পাঠানো হয়েছে, যেখানে সে তার ৮ বছরের সাজা ভোগ করা শুরু করেছে।
চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিটেকটিভ কনস্টেবল অ্যামি পেগন্যাম এই আন্তর্জাতিক যৌথ অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণেই আমরা একজন বিপজ্জনক অপরাধীকে খুঁজে বের করতে এবং তার অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আহমেদ ভেবেছিল সে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেঁচে যাবে, কিন্তু তার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
এই মামলার প্রাথমিক তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাইমন নোওলস এর আগে ভুক্তভোগী নারীর অসীম সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, নিজের সাথে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতার বিষয়ে পুলিশের কাছে মুখ খোলার যে সাহস ভুক্তভোগী দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
যুক্তরাজ্য, ধর্ষণ, ফয়সাল আহমেদ, লন্ডন, ফ্রান্স