মৌলভীবাজারে বন্যায় প্রায় চার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বিপৎসীমার কাছাকাছি জুড়ী নদী
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ১৬ জুলাই, ২০২৬ ৯:১৪ অপরাহ্ন
পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে বন্যায় মৌলভীবাজারে আনুমানিক ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৯৩টি ঘর এবং আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে আরও ১ হাজার ৪৩৯টি ঘর। মৌলবভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে বৃষ্টির পরিমাণ কমায় জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় বলছে, আকস্মিক বন্যায় কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় মোট ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৯৩টি ঘর সম্পূর্ণ এবং ১ হাজার ৪৩৯টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজনগর উপজেলার বাসিন্দা রাসেল মিয়া জানান, ‘বন্যায় আমার বসতঘরের একপাশ ধসে পড়েছে। ঠিকমতো খাবার খাওয়ার টাকা নেই। ঘর ঠিক করবো কীভাবে?’ তিনি বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতির কারণে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে চারটিতে নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে এবং একটিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে জুড়ী নদী। সকাল ৯টায় নদীটির পানির উচ্চতা ১০ দশমিক ০৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার মাত্র ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া মনু নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৪ দশমিক ৪০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩১৫ সেন্টিমিটার নিচে। চাঁদনীঘাট পয়েন্টে মনু নদীর পানি ৯ দশমিক ২৩ মিটারে স্থির রয়েছে, যা বিপৎসীমার ২০৭ সেন্টিমিটার নিচে।
ধলাই নদীর রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়ে ১৭ দশমিক ৬৫ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার ১৭০ সেন্টিমিটার নিচে। অন্যদিকে শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ৮ দশমিক ০৮ মিটারে স্থির রয়েছে, যা বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো বলছে, জেলার নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া সিলেট ভয়েসকে বলেন, ‘বন্যায় আনুমানিক জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করি, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা আর বাড়বে না।’
তিনি বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির জন্য টিন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা শেষে যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মৌলভীবাজার, বন্যা, জুড়ী নদী, পাউবো, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা