সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, গড়ে ৮-১০ শতাংশ বাসাবাড়িতে মিলছে লার্ভা
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ৭ জুলাই, ২০২৬ ৯:২৮ অপরাহ্ন
সিলেটে ফের বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে তুলনামূলক কম হলেও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা মিলছে আশঙ্কাজনক হারে। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় প্রতি ১০০টি বাসাবাড়ির মধ্যে গড়ে ৮-১০ শতাংশ বাসাবাড়িতে লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।
সিসিক বলছে, গত ১ জুলাই থেকে এক সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গড়ে ৮-১০ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে । সোমবার (৬ জুলাই) ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ তিনটি ওয়ার্ডে ৬৯৩টি বাসা বাড়িতে সন্ধান চালিয়ে ৬২টিতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে সিসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা।
উদ্ধারকৃত লার্ভার সিংহভাগই মিলেছে বাসাবাড়ির প্লাস্টিক ড্রাম, পানির বালতি, ফুলের টব এবং টবের নিচের ট্রেতে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করায় এসব পাত্র এখন মশার নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিসিক।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত সিলেটর বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। একই সময়ে নতুন করে দুইজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১২ জন, সুনামগঞ্জে ১৫ জন, মৌলভীবাজারে ৬ জন, হবিগঞ্জে ৩৩ জন এবং অন্য জেলা থেকে সিলেটে এতে তিনজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিধন কর্মসূচি পালন করছে সিসিক। গত ১ জুলাই থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে সিসিকের স্বাস্থ্য বিভিাগের কর্মীরা।
গতকাল সোমবার পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বাসাবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১০০টি বাড়ির মধ্যে গড়ে ৮ থেকে ১০টিতে মিলছে এডিস মশার লার্ভা। সর্বশেষ সোমবার নগরীর ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ৬৯৩টি বাসা বাড়িতে সন্ধান চালিয়ে ৬২টিতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে সিসিক।
সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ লাখ মানুষের সুরক্ষায় মশক নিধনে কাজ করছেন মাত্র ৪০ জন কর্মী। অর্থাৎ, গড়ে প্রতি ওয়ার্ডের জন্য একজন করেও কর্মীও নেই। আবার এই কর্মীদের একটি বড় অংশই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন এবং মশক নিধনের কাজে তাদের তেমন কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। যদিও সিসিক কর্তৃপক্ষের দাবি, মাঠে নামানোর আগে এই কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন,আমাদের সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো ডেঙ্গু রোগী নেই। অন্যান্য জেলায় রোগী রয়েছেন। তবুও আমরা সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি। গত ১ জুলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশক নিধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, লোকবলের কারণে নগরীর সবকটি ওয়ার্ডে একসঙ্গে একযোগে মশক নিধন অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি যাতে তারা সপ্তাহে দু’বার তাদের নিজ নিজ বাসস্থান পরিষ্কার করে।
সিলেট, ডেঙ্গু, সিসিক, এডিস মশা, লার্ভা