০৭ জুলাই ২০২৬

দৈনন্দিন / দুর্ঘটনা

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে নিহত ৮: নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রশাসনের মাইকিং

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ৬ জুলাই, ২০২৬ ৬:২৮ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

টানা মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন। 

 

রোববার (৬ জুলাই) ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামতলি (ক্যাম্প-১৫) আশ্রয়শিবিরে পৃথক চারটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

 

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে বালুখালী আশ্রয়শিবিরের সি-১১ ব্লকে। সেখানে একই পরিবারের চার সদস্য মাটিচাপা পড়ে মারা যান। তারা হলেন আবদুর রাজ্জাকের দুই মেয়ে উন্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), এবং উন্মে হাবিবার দুই ছেলে মো. রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। স্থানীয়দের ভাষ্য, গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে থাকার সময় পাহাড়ের ঢাল ধসে ত্রিপলের তৈরি ঘরটি চাপা পড়ে।

 

সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভূমিধসে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পাহাড়ের ঢালে বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি ঘরগুলো প্রবল বর্ষণে আলগা হয়ে যাওয়া মাটির নিচে চাপা পড়ে। উদ্ধার অভিযান শেষে ধ্বংসস্তূপের চিহ্নই শুধু পড়ে ছিল।

 

জামতলি আশ্রয়শিবিরের ডি-৬ ব্লকে পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস। পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

অন্যদিকে কুতুপালং আশ্রয়শিবিরের ক্যাম্প-৭-এর ডি-৭ ব্লকে পৃথক পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় সাত বছরের শিশু মো. একরাম।

 

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুজন আহত হয়েছেন।

 

রোহিঙ্গা নেতারা বলছেন, রোববার সকাল থেকেই টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়। পরে সেই ফাটলে পানি ঢুকে মাটি ধসে বসতঘর চাপা পড়ে।

 

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নির্মিত ঘরে থাকছেন। দেড় বছর আগে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া বহু রোহিঙ্গাও এখনো নিরাপদ স্থানে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাননি।

 

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ইতোমধ্যে অন্তত এক হাজার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও কয়েক হাজার মানুষকে পর্যায়ক্রমে স্থানান্তর করা হবে।”

 

এদিকে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় সোমবার সকাল থেকে  চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। রোববার রাত থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়।

 

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

 

জেলা প্রশাসন বলছে, নগরের আকবরশাহ ঝিল, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা, টাংকির পাহাড়, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজার পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং চালানো হচ্ছে।

 

এ ছাড়া পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

রোহিঙ্গা শিবির, কক্সবাজার পাহাড়ধস, চট্টগ্রাম পাহাড়ধস, ভারী বৃষ্টি, নিম্নচাপ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ