০৬ জুন ২০২৬

খেলাধুলা-বিনোদন / বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬

ভিসা পেল ইরান, তবে থাকছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নজরদারি

ভয়েস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশঃ ৬ জুন, ২০২৬ ১১:০৮ পূর্বাহ্ন


বিশ্বকাপে খেলার পথের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা আপাতত কাটিয়ে উঠেছে ইরান। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের জন্য ভিসা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভিসা পেলেও পুরো প্রতিনিধিদলকে বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।


শুক্রবার এক মার্কিন কর্মকর্তা এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ইরান জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচ, ফিটনেস ট্রেইনার এবং সহায়ক স্টাফদের একটি অংশের ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কের আনতালিয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্পে থাকা ইরান দল আঙ্কারায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করেছিল।


মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার পর দলটি যুক্তরাষ্ট্র বা মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রা করতে পারবে। তবে কোনো আবেদন বাতিল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


ভিসা অনুমোদনের খবর স্বস্তি এনে দিলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন এক শর্ত। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধিদলে থাকা সদস্যদের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।


রুবিও বলেন, খেলোয়াড়, কোচ বা খেলাধুলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি নেই। তবে প্রতিনিধিদলে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কহীন এবং আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেওয়া হবে না।


আগামী বছরের বিশ্বকাপে ইরান তাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইঙ্গেলউডে। ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে তারা। এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে ইরান।


যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়।


এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে ইরান জাতীয় দল জানিয়ে দেয়, কোনো পক্ষই তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।


অবশ্য ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার মুখে এই প্রথম পড়েনি ইরান। গত এপ্রিল মাসে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজের কানাডার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অতীতে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।


সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেলেও ইরানের জন্য টুর্নামেন্টটি কেবল ফুটবলের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মাঠের বাইরেও রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব তাদের বিশ্বকাপ যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে থাকছে।


শেয়ার করুনঃ

খেলাধুলা-বিনোদন থেকে আরো পড়ুন

ইরান ফুটবল দল, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ , ইরান বিশ্বকাপ ভিসা , যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ