১৭ মে ২০২৬

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ / জীববৈচিত্র

সংরক্ষিত বনে বাড়ছে পাকা স্থাপনা, পরিবেশঝুঁকির শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৭ মে, ২০২৬ ২:৫১ অপরাহ্ন

ছবিঃ সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে পাকা ঘর ও স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা। আইনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় বনভূমির টিলা কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতঘর ও সড়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার নীরব সহযোগিতায় বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার রাজকান্দি, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা রেঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫৩ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বনাঞ্চলের ভেতরে স্থানীয় অনেক পরিবার বসবাস করে আসছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী সেখানে কাঁচা ঘরে বসবাস করা গেলেও পাকা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।


সরেজমিনে দেখা যায়, আগে বনাঞ্চলের ভেতরে অধিকাংশ পরিবার কাঁচা ঘরে বসবাস করলেও গত কয়েক বছরে পাকা ঘর নির্মাণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কোথাও কোথাও টিলা কেটেও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বনের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণক্ষেত্র।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিলা কেটে অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়বে।


এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা ছাড়া সংরক্ষিত বনের ভেতরে এভাবে পাকা ঘর নির্মাণ সম্ভব নয়। এছাড়া গত কয়েক বছরে বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পাকা বাড়ি তৈরি হয়েছে, যার বেশির ভাগই হয়েছে প্রকাশ্যে।


রাজকান্দি রেঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সালাম আহমেদ ও শাহিদ মিয়া বলেন, বনের ভেতরে শুধু পাকা ঘর নয়, পাকা সড়কও তৈরি হচ্ছে। কোথাও অনুমতি নিয়ে কাজ হচ্ছে, আবার কোথাও কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। বন বিভাগের সহায়তা ছাড়া কেউ এসব করতে পারে না বলে আমাদের ধারণা।


তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, বর্তমানে সংরক্ষিত বনের ভেতরে নতুন করে পাকা ঘর নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অতীতে যারা আইন অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।


এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের এ বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণ করলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে পরিবেশকর্মীরা বলছেন, মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল হরিণ, উল্লুক, হনুমান, বন্য শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল। সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুধু পরিবেশের ক্ষতিই করছে না বরং বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্রও ব্যাহত করছে।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে যারা বসবাস করছেন, তাদের একটি অংশ পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। এতে বনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন বিভাগ এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। শুধু স্থাপনা নির্মাণ নয়, বন থেকে গাছ ও বাঁশও নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণীর আবাস হুমকির মুখে পড়েছে।


শেয়ার করুনঃ

প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ থেকে আরো পড়ুন

মৌলভীবাজার বনাঞ্চল, সংরক্ষিত বন, অবৈধ স্থাপনা, পাকা ঘর নির্মাণ, টিলা কাটা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ