০৭ মে ২০২৬

কৃষি / চাষাবাদ

স্যাঁতসেঁতে খলা, শাল্লায় পাকা সড়কই ধান শুকানোর ভরসা

প্রতিনিধি, শাল্লা, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ৭ মে, ২০২৬ ৬:৫৬ অপরাহ্ন


চারদিকে থইথই পানি। হাওরের অনেক জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের খোলা পরিবেশ। তাছারা দীর্ঘদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাড়াই করা ধানও ঠিকমতো শুকাতে না পারায় অনেক কৃষকের ধানে অঙ্কুর গজিয়েছে। 

 

এমন পরিস্থিতিতে শাল্লার কৃষকদের জন্য ধান শুকানোর একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে হাওরের ঢালাই করা পাকা সড়ক।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুর্যের দেখা মিলায় উপজেলার বিভিন্ন হাওরের পাকা সড়কে মাড়াই করা ধান শুকাচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা। খলা ও বাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়কেই ধান ছড়িয়ে শুকাচ্ছেন তারা। 

 

কৃষকরা জানান, পাকা সড়ক না থাকলে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো তাদের। বেশ কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মাড়াই করা ধানে অঙ্কর গজিয়েছে। এতে শত শত বস্তুা ধান পানিতে ভিজিয়ে রেখেছিলেন তারা। এখন রোদ ওঠায় সেগুলো শুকিয়ে সংগ্রহ করছেন কৃষকরা। 

 

ভান্ডাবিল হাওরের কৃষক আগুয়াই গ্রামের বাসিন্দা সুরঞ্জিত দাস জানান, ১৮ কের (বিঘা) জমি করেছিলাম। ১০ কের জমি কোন রকমে কাটতে পারলেও খলা তলিয়ে যাওয়ায় অনেকটা দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। বাড়ির পাশে পাকা সড়কে ধানগুলো শুকাতে পারছি। হাওরের পাকাসড়কগুলো তাদের অনেক উপকারে এসেছে। 

 

কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা উদগল হাওরের কৃষক সাচ্চু মিয়া বলেন, ১০ কের জমির মধ্যে ৫ কের জমির মাড়াই করা ধানে ঘেরা (অঙ্কুর) গজিয়েছে। এতে ধান পঁচে গিয়ে একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ৫ কের জমির ধান হাওরে পানির নিচ থেকে কেটে এনেছি। খলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধানগুলো পাকা সড়কে শুকাচ্ছি।

 

এদিকে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় এ বছর ধান উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা পার হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

 

শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় জানান, জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাড়াই করা ধান নিয়েও কৃষকদের চরম বেকায়দায় পড়েছিলেন। এখন অনেকেই পাকা সড়কে ধান শুকাচ্ছেন। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাঁদও ধান শুকানোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। 

 

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। আমরাও সেখানে সহযোগী হিসেবে রয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থ কোন কৃষক তালিকা থেকে যেন বাদ না পড়ে আমরা সে বিষয়ে সজাগ রয়েছি।’


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

শাল্লা, হাওর, ধান শুকানো, কৃষকের দুর্ভোগ, পাকা সড়ক

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ