০৭ মে ২০২৬

কৃষি

সিলেটে বোরো ধান-চাল সংগ্রহে রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা

মোসাইদ রাহাত

প্রকাশঃ ৬ মে, ২০২৬ ১০:২৭ অপরাহ্ন


সিলেট বিভাগে বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের সক্রিয়তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৬ মৌসুমে সিলেট বিভাগে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৬৯৪ মেট্রিক টন। যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন বেশি। ২০২৫ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার ৪৬৩ মেট্রিক টন। 


একইভাবে চাল সংগ্রহেও লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। ২০২৫ সালে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন। আর ২০২৬ সালে সিদ্ধ ও আতপ চাল মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৩৫৪ মেট্রিক টন।

 

জেলা ভিত্তিক হিসাবেও লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে। ২০২৬ সালে সুনামগঞ্জে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন, যা বিভাগের মোট লক্ষ্যের প্রায় অর্ধেক। 

 

অন্যদিকে হবিগঞ্জে ৮ হাজার ৯০ মেট্রিক টন, সিলেটে ৮ হাজার ২৫১ মেট্রিক টন এবং মৌলভীবাজারে ৬ হাজার ৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহেও সুনামগঞ্জ জেলা শীর্ষে রয়েছে।

 

সংগ্রহমূল্যেও গত কয়েক বছরে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে প্রতি কেজি ধানের মূল্য ছিল ৩২ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৫ টাকা এবং আতপ চাল ৪৪ টাকা। ২০২৫ সালে ধান ৩৬ টাকা ও সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকায় কেনা হয়। ২০২৬ সালেও একই দাম বহাল রাখা হয়েছে ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা ও আতপ চাল ৪৮ টাকা।

 

সংগ্রহ কার্যক্রমের সময়সূচিতেও হাওর ও নন-হাওর অঞ্চলের জন্য পৃথক পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। হাওর এলাকায় চুক্তি সম্পাদন ৩ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত এবং সংগ্রহ ৩ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। নন-হাওর এলাকায় চুক্তির সময় ১৫ মে থেকে ২৫ মে এবং সংগ্রহ ১৫ মে থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের উৎপাদন ভালো হলেও কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছরই দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে ধান বিক্রির সুযোগ সব কৃষক পান না। মাঝখানে দালাল ও সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত হন। এবার সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে কৃষক উপকৃত হবেন।

 

এদিকে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, সিলেট অঞ্চলে এবার বোরো ধানের ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। 

 

খাদ্য বিভাগ করছে, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং কৃষকরাও ন্যায্যমূল্য পাবেন।

 

সিলেট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে সংগ্রহ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বাজারেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শেয়ার করুনঃ

কৃষি থেকে আরো পড়ুন

সিলেট বোরো ধান, ধান সংগ্রহ ২০২৬, চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা, সুনামগঞ্জ ধান উৎপাদন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ