০৪ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / বিচার

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ

আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দুজন, ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যগ্রহণ হবে ক্যামেরা ট্রায়ালে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১৯ মে, ২০২৫ ৮:২২ অপরাহ্ন

ছবিঃ ফাইল ছবি

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলার বাদী আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন। সোমবার (১৯ মে) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে বাদীর আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এছাড়াও ছাত্রাবাসের তৎকালীন দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জীবন কৃষ্ণ আচার্য্যও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, আলোচিত এই মামলার বাদীকে বৈরী ঘোষণা করে জেলহাজতে আবদ্ধ রেখে সাক্ষ্য সম্পন্ন করার আবেদন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তবে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি হয়নি।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বলেন, আদালতে মামলার বাদির সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ২৬ মে নির্ধারণ করেছেন। আগামী তারিখে বাদির স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়ে যাবে। তবে বাদী বৈরী ঘোষণা করে জেলহাজতে 
আবদ্ধ রেখে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছে। আদালতে আবেদনের শুনানি হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, মামলার সাক্ষী কলেজ ছাত্রাবাসের ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক জীবন কৃষ্ণ আচার্য্য সাক্ষ্য দিয়েছেন। 
পিপি আবুল হোসেন আরও বলেন, মামলায় ভুক্তভোগী তরুণীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় ক্যামেরা ট্রায়ালে ঘটনার শিকার তরুণীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। 

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও তিন দিনের মধ্যে ছয় আসামি ও সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ ও র‌্যাব। পরবর্তীতে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

গ্রেপ্তারের পর আসামিদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় আটজন আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

অভিযুক্তরা হলেন, সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন রবিউল ও মাহফুজুর। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড় কেন্দ্রীক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

এমসি কলেজ ধর্ষণ, সিলেট ধর্ষণ মামলা, এমসি কলেজ ছাত্রাবাস, শাবিপ্রবি ধর্ষণ মামলা

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ