০৪ মে ২০২৬

অপরাধ-বিচার / অপরাধ

শান্তিগঞ্জে বৃদ্ধের মানহানির অভিযোগ পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে

প্রতিনিধি, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ

প্রকাশঃ ১৭ মে, ২০২৫ ৬:৫৬ অপরাহ্ন

ছবিঃ পুলিশ কনস্টবল জোনায়েদ আহমদ আল আমীন

শান্তিগঞ্জের স্থানীয় প্রবীণ হাজি আজহার আলীর রাগান্বিত ও বিক্ষুব্ধ আচারণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে মানহানি করার অভিযোগ উঠেছে জোনায়েদ আহমদ আল আমীন নামে এক পুলিশ কনস্টবলের বিরূদ্ধে। অভিযুক্ত জোনায়েদ রাজশাহী পুলিশ রেঞ্জের কনস্টেবল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার গণিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা । 

 

ভুক্তভোগী হাজি আজহার আলী শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ আকিকুর রহমান ও শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান শাহীনের বাবা । 

 

অভিযোগের বিষয়ে জানা যায়, গত বুধবার (১৪ মে) বিকালে গণিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছুটিতে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজ মামা জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষ নিয়ে আজহার আলীর সাথে বাদানুবাদ করেন। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে গালমন্দ করে কৌশলে হাজি আজহার আলীকে উষ্কে দেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। পরে বার্ধ্যজনিত কারণে মেজাজ হারিয়ে গালমন্দ শুরু করলে তা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন কনস্টেবল জোনায়েদ। এমনকি ধান লুটপাটের কথা বলে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেন। 


এমনকি অভিযুক্ত জোনায়েদ ও ভুক্তভোগী  হাজি আজহার আলী সম্পর্কে নানা-নাতি বলে জানা গেছে। 

 

এঘটনায় শুক্রবার (১৬ মে) বিকালে শিমুলবাক গ্রামে সাংবাদিকদের সামনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর ছেলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ আকিকুর রহমান ও শিমুলবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান শাহীন। 

 

তাদের অভিযোগ, বার্ধক্যজনিত সমস্যার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে এবং ধান লুটপাটের অভিযোগ এনে মিথ্যা ও বানোয়াট  সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মানহানি করা হয়েছে। 

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আকবর আলী বলেন, 'লুটপাটের কথা বলে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা ঠিক নয়। ছালিম উদ্দিনের খলা থেকে ধান শুকিয়ে ট্রলি দিয়ে বাড়িতে নিচ্ছিল জাহাঙ্গীরের লোকজন। কিছু ধান খলায় থাকাবস্থায় আজহার আলী চাচার সাথে ঝগড়া হয় পুলিশ জোনায়েদ আহমদ আল আমিনের। পরে খলায় থাকা বাকী ধান সাবেক ও বর্তমান ইউপি সদস্য মিলে ট্রলিতে করে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এখানে লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটতে দেখিনি।'

 

খলার মালিক ছালিম উদ্দিন বলেন, 'এখানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। জাহাঙ্গীরের ধান জাহাঙ্গীরের লোকজনই নিয়েছে। ধান নেওয়ার সময় জাহাঙ্গীরের বোন হেনা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তার ভাগ্না আল আমীন হাজি সাহেবের সাথে খুবই অন্যায় আচরণ করেছে।'

 

 প্রাক্তন ইউপি সদস্য আবদুল তালিব বলেন, 'লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঝামেলার পরে যে ধান খলায় ছিলো তা আমি ও বর্তমান মেম্বার তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। মুরব্বি মানুষকে জোনায়েদ আহমদ আল আমীন যেভাবে অপমান অপদস্ত করেছে তা একদমই ঠিক হয়নি।'

 

ট্রলি চালক শায়েখ মিয়া ও কামরান হোসেন বলেন, 'মেম্বার সাহেব আমাদের বলেছেন আমরা ধান জাহাঙ্গীর ভাইর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তার বোন ধান রিসিভ করেছেন।'

 

শালিস ব্যক্তি জসিম উদ্দিন ও পাশের গ্রাম রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মুহিবুর রহমান মানিক বলেন, 'হাজি আজহার আলী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ও সহজ সরল প্রকৃতির লোক। তাকে উষ্কে দিয়ে গালাগালির ভিডিও রেকর্ড করে ফেসবুকে দেওয়ায় এলাকার মান ক্ষুন্ন হয়েছে। ধান লুটপাট হয়েছে বলে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আরেক গ্রাম থেকে এসে জোনায়েদ আহমদ আল আমীন যে কাজটি করেছে তাতে আমাদের গ্রামের বা এলাকার মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।'

 

হাজি আজহার আলীর ছেলে ও বিএনপি নেতা সৈয়দ আকিকুর রহমান জানান, আমার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও পূর্বপরিকল্পিত। একজন বিরান্নব্বই বছর বয়সী বৃদ্ধ লোককে আগে গালাগালি করে উষ্কে দিয়েছিলো জুনায়েদ আহমদ আল আল আমীন। বয়সের কারণে সহজেই মেজাজ হারান তিনি। বাবার অংশের গালাগালি ভিডিও রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে সে। এরপর সংবাদ প্রচারও করিয়েছে। সংবাদে অনেক মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। 

 

অন্য জেলায় চাকরি করা একজন কন্সস্টেবল কি বাড়িতে ছুটিতে এসে এমন আচরণ করতে পারে? এতে কী স্বনামধন্য পুলিশ বাহিনীর সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে না? যদি একজন কন্সস্টেবল এমন আচরণ করতে না পারেন তাহলে আমরা বাবার মান ক্ষুন্ন করায় ও মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করায় পুলিশ আল আমীনের শাস্তি চাই।'

 

অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল জোনায়েদ আহমদ আল আমীন বলেন, আমার উপরে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছুটিতে মামার বাড়ি বেড়াতে গেলে দূর থেকে দেখতে পাই আমার খালামনিকে আজহার আলী মারতে আসছেন। এসময় আমি দৌঁড়ে গিয়ে তাকে আটকিয়েছি। এলাকার অনেক মানুষ থাকা স্বত্বেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। এসময় আমি এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করি। তবে ফেসবুকে আমি কোনো ভিডিও আপলোড করিনি। 

 

আপনার ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে কিভাবে গেলো তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুদু আমার মামা জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এই ভিডিও পাঠিয়েছিলাম। কে বা কারা তা ফেসবুকে ছড়িয়েছে সে সম্পর্কে আমি অবগত নই।'

 

প্রবাসী ও অভিযুক্তের মামা জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার বাড়িতে পুরুষ মানুষ কেউ নাই। সেই সুযোগে চেয়ারম্যান শাহিন মিয়া ও তার ভাইসহ তাদের আত্নীয় স্বজন আমার ধান লুটপাট করেছে। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না। তাই আমার বাসার সিসি টিভিতে রেকর্ড হয়নি। 


জাহাঙ্গীর আরও বলেন, গ্রামের কেউ আমার পক্ষে নাই। সবাই চেয়ারম্যানের পক্ষের লোক, এ জন্য সবাই এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চাইছেন।


শেয়ার করুনঃ

অপরাধ-বিচার থেকে আরো পড়ুন

শান্তিগঞ্জ, প্রবীণ হাজি আজহার আলী, পুলিশ কনস্টবল, জোনায়েদ আহমদ আল আমীন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ