১৯ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ভোটের সমীকরণ: মৌলভীবাজার-২

চতুর্মুখী লড়াইয়ের আভাস, টার্গেট ‘চা-শ্রমিক ও আ.লীগ ভোটার’

জিয়াউল হক জিয়া, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার

প্রকাশঃ ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৮:৩৪ অপরাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস গ্রাফিক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন আটজন প্রার্থী। স্থানীয় ভোটারদের মতে, অন্যতম এ আসনে চতুর্মূখী লড়ায়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে মূল লড়াই হতে পারে বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলীর (দাঁড়িপাল্লা) মধ্যে। 

 

এদিকে শক্ত অবস্থান থাকা সত্ত্বেও চার প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে ‘চা শ্রমিক ও আওয়ামী লীগ’ সমর্থকদের ভোটে। এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে তরুণদের ভোট- এমনটাও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

 

স্থানীয় ভোটাররা ধারণা করছেন, আসনটিতে এবার বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যতীত ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল) এবং ফজলুল হক খান সাহেদ (কাপ-পিরিচ)। এ আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি)। 

 

স্থানীয় ভোটারদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হতে পারে বিএনপি প্রার্থী শওকতুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদদের মধ্যে । এদিকে সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়ায় আলোচনায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী ও ফজলুল হক। 

 

তাদের দাবি, মুসলিম, হিন্দু, খাসিয়া ও চা শ্রমিক জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত এ আসনে ফেক্টর হয়ে দাঁড়াতে ‘চা শ্রমিকদের ভোট’ ও ‘আওয়ামী লীগ ভোটার’। 

 

স্থানীয়রা মনে করছেন, অনেক ভুল হয়েছে, এবার আর কুলাউড়ার আসনের মানুষ স্বতস্ত্র বেঁচে নেবে না। এমন জটিল সমীকরণের আরও একটি কারণ হলো বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীরের বাড়ি কুলাউড়ায়। এ অবস্থায় সাধারণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত দাঁড়িপাল্লাকে বেচে নিতে পারেন বলে মনে করছেন অনেক ভোটার। 

 

এদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটার, চা-শ্রমিক এবং তরুণ প্রজন্মের ভোট এবার ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করছেন

 

 এ চার প্রার্থী ছজাড়াও আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা), জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী (কাঁচি) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম জিমিউর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া) প্রতীকে ভোটের মাঠে লড়াইয়ে রয়েছেন।
 
কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, কুলাউড়ার প্রত্যেক চা বাগানে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। চা শ্রমিকরা অত্যন্ত সচেতন। যেহেতু এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মাঠে নেই। রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে চা-শ্রমিকরা বিএনপিকেই বেছে নেবে এবং ধানের শীষে ভোট দেবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী।


বিএনপি প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মানুষ তাদেও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে- বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার।


জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী বলেন, কুলাউড়া আসনে অতীতে একাধিকবার অন্য দলগুলোকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত উন্নয়নই হয়নি। মানুষের ধারণা জন্মেছে, এবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় জামায়াতে ইসলামী যাবে এবং কুলাউড়ার সন্তান ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।
 
তিনি বলেন, কুলাউড়ার চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনমান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
 
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, কুলাউড়া আমার ভালোবাসার জায়গা। এই এলাকার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি।
 
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, বিগত দিনে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদে আমি দু’বার ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুলাউড়াবাসীর উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার জন্য এমপি পদে প্রার্থী হয়েছি। কুলাউড়ার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুশাসনের জন্য কাজ করবো।

 

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায়  মোট  ভোটার সংখ্যা হলো তিন লাখ তিন হাজার ২০। পোস্টাল ভোট পাঁচ হাজার ৫৯১। মোট  ভোট কেন্দ্র ১০৩টি। এ আসনে প্রার্থীদের টার্গেট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও  চা শ্রমিকদের ভোট।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

নির্বাচন, মৌলভীবাজার-২ আসন, ভোটের সমীকরণ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ