বিমানবন্দর থেকে নদী–হাওর: সিলেট নিয়ে ৮ প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের
সিলেটে জামায়াত প্রধান
প্রকাশঃ ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:২৫ অপরাহ্ন
সিলেটের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ করা থেকে শুরু করে নদী, হাওর, চা শ্রমিক, শিক্ষা ও প্রবাসীদের অধিকারসহ মোট ৮টি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে তিনটায় সিলেট নগরের আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে দীর্ঘ বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসী নির্ভর এই সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। যদি এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে, তাহলে সকল এয়ারলাইন্সের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন? এতদিন ধরে এটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয় না কেন? সিলেটি প্রবাসীরাতো বাংলাদেশের রিমিটেন্সে বিশাল অবদান রেখে চলছেন। আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ এই উসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নয়, কামে পূর্ণাঙ্গ হবে ইনশাআল্লাহ।
যুক্তরাজ্য ও প্রবাসী সিলেটিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ করে ইউকেতে যে সমস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাট। সেখানে নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত আসতো। এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে কেন? আমরা তো আগাবো, পিছাবো না। আমরা চিংড়ি মাছ না যে শুধু পিছনের দিকে চলে। আমরা সিংহের মতো সামনে আগাতে চাই।
নদী ও পরিবেশ বিষয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, ভাই ও বন্ধুগণ, সিলেটের নদীগুলো মরে আছে। বাংলাদেশের নদীগুলো মরে আছে। নদী দখল করা হয়েছে, নদীর পেট ভরিয়ে ফেলা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, পানি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। নদী রাগ করে কেন? তার হক তাকে দেওয়া হয় না বলেই নদী রাগ করে।
সুরমা–কুশিয়ারা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সুরমা কুশিয়ারা যেন বইয়ের পাতায় না থাকে। বাস্তবে যেন পাওয়া যায়। আমরা ইনশাআল্লাহ সেই সুরমা কুশিয়ারা বানাবো যেটা মানুষ চোখে দেখবে, পানিতে হাত দেবে।
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার অবস্থা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জের হাওড়, বাওর এলাকা দেশের খাদ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সরবরাহ করে। অথচ এই এলাকা অবহেলিত। বাঁধ ভেঙে যায় কেন? ইদুরে বাঁধ কাটে কেন? ওই যে ইদুরগুলো বাঁধের টাকা পেটের ভিতরে ঢুকায়ে ফেলেছে, ওদের জন্যই বাঁধ কাটে। আগামীতে ওই ইদুরদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না।
চা বাগানের শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেট চা বাগান সমৃদ্ধ এলাকা। কিন্তু চা বাগানের নারী পুরুষ শ্রমিকদের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে, অথচ আহার জোটে না। সন্তান জন্ম নেয়স্বাস্থ্যসেবা পায় না। একটু বড় হয় শিক্ষা পায় না। এরা কি এ দেশের নাগরিক না? এরা কি মানবের সন্তান না? এই মানুষগুলোর দায়িত্ব সরকার নেবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেটের শিক্ষা অবকাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, এই সিলেটের আরও বহু বঞ্চনা আছে। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটা হয়েছে এতিমের মতো পড়ে আছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ একটা হয়েছে ওটার কোনো ফাংশন নাই। ইনশাআল্লাহ এগুলো কার্যকর করা হবে।
শেষে সিলেটবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যুগে যুগে অনেক দল ও ব্যক্তিকে সুযোগ দিয়েছেন, পরীক্ষা করেছেন। একবার আমাদের একটু সুযোগ দেন। আমরা আপনাদের মালিক হবো না। আপনাদের সম্পদ, জীবন ও আপনাদের ইজ্জতের পাশে দাঁড়িয়ে চৌকিদারের কাজ করবো। পাহারা দেবো, ইনশাআল্লাহ।
সিলেট, জামায়াত, নির্বাচন, জামায়াত আমির, নির্বাচনী প্রচারণা, সিলেটের উন্নয়ন, জামায়াতের প্রতিশ্রুতি