২৩ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন / জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সিলেটে বিএনপি-জামায়াতের টার্গেট তরুণ ভোটার

মেহেদী হাসান তানিম

প্রকাশঃ ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১০:০০ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে প্রার্থীদের জয়–পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন নতুন ও তরুণ ভোটাররা। জীবনের প্রথম ভোটে সৎ, উদ্যমী ও উন্নয়নবান্ধব জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান তারা। তরুণ ভোটারদের এই চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার–প্রচারণায় বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন প্রার্থীরাও।

 

নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সিলেটের নির্বাচনী মাঠ। সিলেটের সবগুলো আসনই গুরুত্বপূর্ণ হলেও সিলেট-১ আসনকে বিশেষ মর্যাদার আসন হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত ধারণায় রয়েছে সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে। অতীতেও এমন নজির দেখা গেছে।

 

সিলেট-১ আসনে এবার মূলত তিনজন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল লড়াইটি হতে যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই।

 

প্রতিদিনই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। সিলেটের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি, বারবার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব এবং শিল্পকারখানার অভাব এসব বিষয় প্রচারণায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রার্থীরা বলছেন, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক শিক্ষিত তরুণ দেশ ছাড়ছেন, যা সিলেটের জন্য বড় ক্ষতি।

 

সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল মাজিদ বলেন, প্রায় প্রতিদিনই প্রার্থীরা প্রচারণা প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমাদের কাছেও আসছেন ভোট চাইতেছেন। মোটামুটি সব প্রার্থীরাই আশ্বাস দিচ্ছেন আগামী সরকার তরুণদের প্রাধান্য দিবে। আমরাও চাই যে সরকারই আসুক আমাদের মতো তরুণ সমাজদের নিয়েই কাজ করুন তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা করুক।   

 

অন্যদিকে সিলেট-৪ আসনেও জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পর্যটনসমৃদ্ধ এই আসনে জাফলং ও সাদা পাথর এলাকায় লুটপাট এবং পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

 

স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, আরিফুল হক চৌধুরী বহিরাগত প্রার্থী হলেও তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি বড় শক্তি। অন্যদিকে জয়নাল আবেদিন ভূমিপুত্র হওয়ায় স্থানীয় সমর্থনে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত এখানে ফল নির্ধারণ করবে ভোটারদের উপস্থিতি ও তরুণদের ভোট।

 

স্থানীয় তরুণ ভোটার জয় তালুকদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে এবারের নির্বাচনে গতবারের তুলনায় প্রায় দুই লক্ষাধিক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই তরুণ। তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সিলেট গড়ার প্রতিশ্রুতি চাইছেন। প্রার্থীরাও এসব ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

 

তরুণ প্রজন্ম নিয়েই কাজ করতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তরুণরাই আমাদের সব। আমার নির্বাচনী এলাকায় তরুণদের নিয়ে কাজ করার বিরাট স্বপ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে বিদেশমুখি হয়ে যাওয়ার প্রবনতা কমিয়ে আনতে আমাদের সরকার ও দল দুটোই কাজ করবে।

 

অন্যদিকে তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ উল্লেখ করে একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ দূর করেছে এই তরুণরা।  আমাদের তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। এই তরুণরা দেখেছে স্বৈরাচারের শাসন তারা আর এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি হোক চায় না। সেজন্য আমি বিশ্বাস করি তরুণদের বড় একট অংশ আমাদের ভোট দিবে কারণ তারা পরিবর্তনের বাংলাদেশ দেখতে চায়।


শেয়ার করুনঃ

নির্বাচন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট, বিএনপি-জামায়াত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, আগামীর বাংলাদেশ, সিলেট-১ আসন

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ